x
d o c t o r s 2 4
18 Nov

অ্যাস্থমা বা হাঁপানি—একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, যা পৃথিবীর প্রায় ৩০ কোটি মানুষকে ভোগাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন এটি হঠাৎ করেই শুরু হয়, কিন্তু বাস্তবে শরীর অন্তত দুই সপ্তাহ আগেই অ্যাস্থমার সংকেত পাঠায়। সমস্যা হলো—এই সংকেতগুলো এতটাই সাধারণ ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে যায় যে অনেকেই সেগুলো উপেক্ষা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাস্থমা মূলত শ্বাসনালীর প্রদাহ ও অতিসংবেদনশীলতাজনিত সমস্যা। ধুলো, ধোঁয়া, ঠান্ডা বাতাস, বা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে শ্বাসনালি সংকুচিত হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তবে রোগ শুরু হওয়ার আগে শরীর কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে আগাম সতর্ক করে দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যাস্থমা শুরুর ২ সপ্তাহ আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ—

১. ঘন ঘন শুকনো কাশি, বিশেষ করে রাতে

অ্যাস্থমা শুরু হওয়ার অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হলো অবিরাম শুকনো কাশি, যা সাধারণত রাতে বা ভোরে বেড়ে যায়।
অনেকে এটিকে ঠান্ডা বা অ্যালার্জি ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু বাস্তবে এটি শ্বাসনালীর প্রদাহের প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাস্থমা রোগীর প্রায় ৬৫% ক্ষেত্রে কাশি প্রথম উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় এবং পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
এই কাশি সাধারণত কোনো ওষুধে পুরোপুরি সারে না এবং বাতাসে ধুলো বা ঠান্ডা লাগলে বেড়ে যায়।

২. শ্বাস নিতে কষ্ট বা হুইজিং (শিসের মতো শব্দ)

অ্যাস্থমার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই অনেকে লক্ষ্য করেন, সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বা শ্বাসের সঙ্গে “শিসের মতো শব্দ” (wheezing) শোনা যায়।

এটি মূলত ফুসফুসের বায়ুনালি সংকুচিত হওয়ার কারণে ঘটে। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু ঠান্ডা বা শ্বাসনালির সংক্রমণ, কিন্তু যখন এই শব্দ বারবার শোনা যায়—তখন এটি অ্যাস্থমার আগাম লক্ষণ।

৩. বুকে চাপ, ভারীভাব বা অস্বস্তি

অ্যাস্থমার আগমনী সময়ে শ্বাসনালির প্রদাহের কারণে বুকে ভারী লাগা বা টান টান ব্যথা অনুভূত হয়।
এই অনুভূতিটি প্রায়ই হালকা হলেও স্থায়ী হয়, এবং বিশেষত রাতে বা সকালের দিকে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সেই সময় যখন শরীর অক্সিজেন কম পেতে শুরু করে। যদি ব্যথা বা চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্টও যোগ হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৪. ঘন ঘন হাঁচি, নাক বন্ধ বা অ্যালার্জি-জাতীয় সমস্যা

অ্যাস্থমা শুরু হওয়ার আগে প্রায়ই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা সাইনাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
ঘন ঘন হাঁচি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া বা গলা চুলকানো—এই উপসর্গগুলো উপেক্ষা করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা হাঁপানিতে রূপ নিতে পারে।
কারণ, একই অ্যালার্জেন (যেমন—ধুলো, ফুলের পরাগ, পশুর লোম বা ধোঁয়া) নাকের পাশাপাশি শ্বাসনালিকেও উত্তেজিত করে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

  • দুই সপ্তাহ ধরে স্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট বা হুইজিং থাকলে অবিলম্বে স্পিরোমেট্রি বা পিক ফ্লো টেস্ট করানো উচিত, যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নির্ণয় করে।
  • যাদের পরিবারে অ্যাস্থমা বা অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাদের জন্য আগাম সচেতনতা জরুরি।
  • ধুলো, ধোঁয়া, পারফিউম বা তীব্র গন্ধ থেকে দূরে থাকা, ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার, এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শ্বাসযন্ত্রকে মজবুত রাখে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ইনহেলার বা স্টেরয়েড ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে।

২০২৪ সালে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক রোগীর শরীরে অ্যাস্থমা শুরু হওয়ার অন্তত ১০-১৪ দিন আগে শ্বাসনালির প্রদাহজনিত প্রোটিন (FeNO) বাড়তে শুরু করে, যা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তের নতুন উপায় হিসেবে কাজ করতে পারে।

Leave A Comment