x
d o c t o r s 2 4
03 Feb

আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন ডেফিসিয়েন্সি (AATD) একটি বংশগত রোগ, যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন (AAT) প্রোটিন তৈরি হয় না। এই প্রোটিন মূলত ফুসফুসকে ক্ষতিকর এনজাইমের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখন এর ঘাটতি দেখা দেয়, তখন ধীরে ধীরে ফুসফুস ও লিভারে ক্ষতি শুরু হয়। আশঙ্কার বিষয় হলো—রোগটি পুরোপুরি প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ৬ মাস আগেই শরীরে কিছু সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা হয়।

আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন ডেফিসিয়েন্সি কেন গুরুতর?

এই রোগ অচিহ্নিত থাকলে অল্প বয়সেই সিওপিডি (COPD), এমফিসেমা, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ধূমপান বা দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বাড়ে। তবে আগেভাগে শনাক্ত হলে জীবনযাত্রা ও চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব।

৬ মাস আগে শরীরে দেখা দেয় যে ৭টি লক্ষণ

নিচে আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন ডেফিসিয়েন্সির সম্ভাব্য প্রাথমিক লক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো—

১. হালকা পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট
সিঁড়ি ভাঙা, দ্রুত হাঁটা বা সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে যাওয়া—যা আগে হতো না। এটি ফুসফুসের টিস্যু ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত।

২. দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা হুইজিং
ঠান্ডা বা সংক্রমণ ছাড়াই শুকনো কাশি বা শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া AATD-এর আগাম লক্ষণ হতে পারে।

৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সারাদিন ক্লান্ত লাগে, তবে তা শরীরে অক্সিজেন আদান-প্রদানের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

৪. বারবার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস বা বুকের সংক্রমণ ঘন ঘন হলে এটি ফুসফুসের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার লক্ষণ।

৫. পেটের ডান পাশে অস্বস্তি বা ফোলাভাব
লিভারে AAT প্রোটিন জমে গিয়ে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। এর ফলে পেটের ডান দিকের উপরের অংশে ভারীভাব বা অস্বস্তি অনুভূত হয়।

৬. ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া
হালকা জন্ডিস অনেক সময় লিভার সমস্যার আগাম সংকেত। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এটি অবহেলা করা উচিত নয়।

৭. অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা
শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও লিভার সমস্যার কারণে ক্ষুধা কমে যেতে পারে, যা ধীরে ধীরে ওজন হ্রাসের কারণ হয়।

নতুন তথ্য

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, AATD রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই সঠিকভাবে শনাক্ত হন না বা দেরিতে শনাক্ত হন। আশ্চর্যের বিষয় হলো—যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ২০–৩০ বছর বয়সেই ফুসফুসের উপসর্গ শুরু হতে পারে, এমনকি ধূমপান না করলেও।

কখন পরীক্ষা করানো জরুরি?

যদি অল্প বয়সে শ্বাসকষ্ট, সিওপিডির লক্ষণ বা লিভার সমস্যার ইতিহাস থাকে, তাহলে রক্তে AAT লেভেল টেস্ট করানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে জেনেটিক পরীক্ষাও করা হয়।

আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন ডেফিসিয়েন্সি নীরবে শরীরের ভেতরে ক্ষতি করে, কিন্তু শরীর আগেভাগেই সতর্ক সংকেত দেয়। শ্বাসকষ্ট, বারবার সংক্রমণ বা লিভারজনিত অস্বস্তিকে হালকাভাবে না নিয়ে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave A Comment