x
d o c t o r s 2 4
02 Feb

মেটাক্রোম্যাটিক লিউকোডিস্ট্রফি (Metachromatic Leukodystrophy—MLD) একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক বংশগত স্নায়ুরোগ, যেখানে ARSA নামের এনজাইমের ঘাটতির কারণে স্নায়ুকোষের চারপাশের সুরক্ষাবেষ্টনী মাইলিন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে সিগন্যাল আদান-প্রদান ব্যাহত হয়। সমস্যাটি হলো—রোগটি পুরোপুরি প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ১ বছর আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখায়, যেগুলো অনেক সময় আচরণগত সমস্যা, পড়াশোনার চাপ বা সাধারণ স্নায়বিক দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ আগেভাগে শনাক্ত হলে আধুনিক চিকিৎসায় রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব।

মেটাক্রোম্যাটিক লিউকোডিস্ট্রফি কেন এত বিপজ্জনক?

MLD সাধারণত শিশু বা কিশোর বয়সে শুরু হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও দেখা যায়। দেরিতে শনাক্ত হলে হাঁটাচলা, কথা বলা, স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষণ শুরু হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা গেলে স্নায়ুকোষের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়—এ কারণেই আগাম লক্ষণ চেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১ বছর আগে শরীরে দেখা দেয় যে ৫টি লক্ষণ

নিচে MLD-এর এমন ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো রোগের স্পষ্ট প্রকাশের অনেক আগেই দেখা দিতে পারে—

১. আচরণ ও ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন
শিশু বা কিশোরের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন—চুপচাপ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রাগ, মনোযোগের ঘাটতি বা সামাজিক আগ্রহ কমে যাওয়া। অনেক সময় এটিকে মানসিক সমস্যা বা বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন মনে করা হয়।

২. হাঁটাচলায় অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা
হঠাৎ হোঁচট খাওয়া, সিঁড়ি ভাঙতে সমস্যা বা আগের মতো দৌড়াতে না পারা—এসব স্নায়ু ও মাইলিন ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

৩. পড়াশোনা বা কাজে দক্ষতা কমে যাওয়া
যে কাজগুলো আগে সহজ ছিল, সেগুলো করতে বেশি সময় লাগা বা ভুল বেড়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এটি মস্তিষ্কের সাদা পদার্থের (white matter) কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ফল।

৪. হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা
হাত-পায়ে অবশভাব, ঝিনঝিনি বা শক্তি কমে যাওয়া—যা ধীরে ধীরে বাড়ে। এটি পারিফেরাল নার্ভ ক্ষতির আগাম লক্ষণ।

৫. কথা বলতে বা শব্দ উচ্চারণে সমস্যা
কথা জড়িয়ে যাওয়া, শব্দ পরিষ্কারভাবে বলতে না পারা বা ভাষা প্রকাশে ধীরগতি—এসব লক্ষণ অনেক সময় নজরে পড়ে না, কিন্তু MLD-এর গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

জানা জরুরি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিন থেরাপি ও হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট (HSCT) নিয়ে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষণ শুরুর আগেই বা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে রোগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করা যায়। অনেক দেশে এখন নবজাতক স্ক্রিনিং-এ MLD অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।

কখন পরীক্ষা করানো জরুরি?

যদি উপরোক্ত একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায়, বিশেষ করে পরিবারের কারও অজানা স্নায়ুরোগের ইতিহাস থাকলে, দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এনজাইম অ্যাক্টিভিটি টেস্ট, মস্তিষ্কের এমআরআই ও জেনেটিক পরীক্ষা রোগ শনাক্তে সহায়ক।

Leave A Comment