x
d o c t o r s 2 4
24 Sep

এন্ডোমেট্রিওসিস, একটি দীর্ঘস্থায়ী স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা, বাংলাদেশে হাজার হাজার নারীর জীবনকে প্রভাবিত করছে। জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তীব্র পেটে ব্যথা, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, এবং এমনকি বন্ধ্যাত্বের মতো জটিলতা দেখা দেয়। আধুনিক চিকিৎসা যেমন ওষুধ বা অস্ত্রোপচার কার্যকর হলেও, বাংলাদেশে অনেক নারী এখন ঐতিহ্যবাহী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন, যা সাশ্রয়ী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত সমাধান প্রদান করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিগুলো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা:

বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা, বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি পদ্ধতি, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। এন্ডোমেট্রিওসিসের উপসর্গ কমাতে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গরম সেঁক তলপেটের তীব্র ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। গরম পানির ব্যাগ বা গরম কাপড় ব্যবহার করে এই পদ্ধতি সহজেই প্রয়োগ করা যায়। এছাড়া, হলুদ এর প্রদাহনাশক গুণ কারকিউমিনের কারণে ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা-চামচ হলুদ মিশিয়ে দৈনিক সেবন উপকারী হতে পারে।

আদাও এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং পেটের পেশির টান কমায়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অনেকে আদার চা বা আদা-মধু মিশ্রণ ব্যবহার করেন। এছাড়া, ম্যাসাজ থেরাপি, বিশেষ করে তিলের তেল বা নারকেল তেল দিয়ে, পেলভিক এলাকায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা কমাতে পারে।

আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিকোণ:

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসায় শরীরের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের উপর জোর দেয়। ঢাকার আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দা ফারিদা আক্তার বলেন, “এন্ডোমেট্রিওসিসে প্রায়ই ‘বাত’ এবং ‘পিত্ত’ দোষের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। আমরা অশ্বগন্ধা, শতাবরী, এবং ত্রিফলার মতো ভেষজ ব্যবহার করি যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমায়।” সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অশ্বগন্ধা পেলভিক ব্যথা ৩০% পর্যন্ত কমাতে পারে যখন নিয়মিত সেবন করা হয়।

এছাড়া, আয়ুর্বেদিক ডায়েটে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ বা আখরোট, এবং প্রদাহবিরোধী খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন উপাদান, যেমন আমলকী বা হরিতকী, শরীরের টক্সিন দূর করতে সহায়ক।

মানসিক চাপ এন্ডোমেট্রিওসিসের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে। যোগব্যায়াম এবং ধ্যান, বিশেষ করে ‘প্রাণায়াম’, মানসিক চাপ কমাতে এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে ‘শবাসন’ এবং ‘ভুজঙ্গাসন’ জনপ্রিয়, কারণ এগুলো পেলভিক পেশির উত্তেজনা কমায়।

 

Leave A Comment