করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দেহ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দাফন করতে হয়। এই সময় প্রিয়জনেরা মৃতদেহ স্পর্শ করার বা কাছে যাওয়ার সুযোগ পান না, কারণ মৃতদেহে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। এই ভাইরাস মৃতদেহে কতক্ষণ সক্রিয় থাকে এবং এর সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মৃতদেহে করোনাভাইরাস কতক্ষণ থাকে?
করোনাভাইরাস সাধারণত জীবিত মানুষ বা প্রাণীর শরীরে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে, মৃতদেহে এই ভাইরাস সাধারণত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। যদিও এই সময়সীমা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়, কারণ এটি পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং অন্যান্য কারণের ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা জানান, মৃত্যুর পর ভাইরাসের সক্রিয়তা দ্রুত কমে যায়, তবে সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় না।
মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য সাধারণত মৃত্যুর ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই নমুনা সাধারণত নাকের সোয়াব থেকে সংগ্রহ করা হয়। এমনকি ভাইরাসটি মৃত হলেও, পিসিআর (PCR) পরীক্ষার মাধ্যমে এর উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব।
মৃতদেহের দাফন বা সৎকারে সতর্কতা
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃতদেহ নিরাপদে পরিচালনার জন্য কিছু নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
- স্পর্শ এড়ানো: মৃতদেহ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। প্রিয়জনের শেষ বিদায়ের সময় সরাসরি স্পর্শের পরিবর্তে দূর থেকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত।
- ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE): মৃতদেহ পরিচালনাকারী স্বাস্থ্যকর্মী বা দাফনকারীদের অবশ্যই পিপিই (গ্লাভস, মাস্ক, ফেস শিল্ড, গাউন) ব্যবহার করতে হবে।
- নিরাপদ দাফন প্রক্রিয়া: মৃতদেহ সিল করা ব্যাগে রাখা উচিত এবং দাফন বা সৎকারের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা অনুযায়ী, মৃতদেহ দ্রুত এবং নিরাপদে দাফন বা সৎকার করা উচিত।
- পরিবেশ জীবাণুমুক্তকরণ: মৃতদেহ পরিচালনার পর ব্যবহৃত স্থান এবং সরঞ্জাম ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস মৃতদেহের পৃষ্ঠে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের নমুনায় কিছুক্ষণ সক্রিয় থাকলেও, এর সংক্রমণ ক্ষমতা জীবিত ব্যক্তির তুলনায় অনেক কম। তবুও, সতর্কতা হিসেবে মৃতদেহের সংস্পর্শে আসার সময় সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এছাড়া, মৃতদেহের পোশাক বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রও সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন।
