করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুধু জ্বর, কাশি, বা শ্বাসকষ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং ব্রিটিশ গবেষকরা এই ভাইরাসের দুটি নতুন উপসর্গ চিহ্নিত করেছেন: ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদশক্তি হারানো। এই লক্ষণগুলো অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াই দেখা দিচ্ছে, যা করোনা শনাক্তকরণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই নিবন্ধে আমরা এই নতুন উপসর্গ এবং করোনার বিশ্বব্যাপী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব।
করোনার উপসর্গ: ঘ্রাণ ও স্বাদ হারানো
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সেবার প্রধান জেরোমি সালমন জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে ঘ্রাণশক্তি (anosmia) এবং স্বাদশক্তি (ageusia) হারানোর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি যাদের নাক বন্ধ বা সর্দির মতো কোনো সমস্যা নেই, তারাও হঠাৎ করে কোনো গন্ধ বা স্বাদ অনুভব করতে পারছেন না। এই লক্ষণগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রাথমিক সূচক হতে পারে, এমনকি জ্বর বা কাশির মতো সাধারণ উপসর্গ না থাকলেও।
গবেষকরা দেখেছেন, এই ভাইরাস মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করতে পারে, যা ঘ্রাণ ও স্বাদশক্তির জন্য দায়ী স্নায়ুকোষগুলোর ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো বিশেষ করে তরুণ এবং সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে, যারা হয়তো অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ অনুভব করেন না।
অন্যান্য উপসর্গ
ঘ্রাণ ও স্বাদ হারানো ছাড়াও করোনাভাইরাসের সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জ্বর বা ঠান্ডা লাগা
- শুকনো কাশি
- শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে অসুবিধা
- শরীরে ব্যথা বা পেশিতে ব্যথা
- ক্লান্তি বা দুর্বলতা
- গলা ব্যথা
কিছু ক্ষেত্রে, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, বা ত্বকে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তবে ঘ্রাণ ও স্বাদ হারানো এমন একটি লক্ষণ যা অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের রোগের (যেমন সাধারণ সর্দি বা ফ্লু) থেকে করোনাকে আলাদা করতে সহায়ক।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
করোনার নতুন উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিজেকে ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
- উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করুন: যদি আপনি হঠাৎ ঘ্রাণ বা স্বাদ হারান, তবে অবিলম্বে নিজেকে আলাদা (self-isolate) করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এমনকি অন্য কোনো উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা করানো জরুরি।
- মাস্ক ব্যবহার করুন: জনবহুল স্থানে মাস্ক পরুন এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।
- হাত ধোয়া: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
- জনসমাগম এড়িয়ে চলুন: ভিড়যুক্ত স্থানে যাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ করুন।
- স্বাস্থ্যকর জীবনধারা: পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, এবং হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখুন।
- পরীক্ষা ও চিকিৎসা: যদি আপনার করোনার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।
