করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও আরটিপিসিআর টেস্টে ফল নেগেটিভ আসতে পারে, তবে এর মানে এই নয় যে আপনি নিরাপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গ থাকলে টেস্টের ফলের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা জানব, কেন ফলস নেগেটিভ বা ফলস পজিটিভ ফল আসে এবং উপসর্গের ভিত্তিতে কীভাবে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরটিপিসিআর ও অ্যান্টিবডি টেস্টের সীমাবদ্ধতা
আরটিপিসিআর টেস্ট করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলেও এটি সবসময় সঠিক ফল দেয় না। বিশেষজ্ঞরা জানান, নমুনা সংগ্রহ, পরিবহন, বা ল্যাবে পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে ফলস নেগেটিভ ফল আসতে পারে। তবে আরটিপিসিআর টেস্টে ফলস পজিটিভ ফলের সম্ভাবনা খুবই কম।
অন্যদিকে, অ্যান্টিবডি টেস্টে ফলস নেগেটিভ এবং ফলস পজিটিভ উভয়ই সম্ভব। এ কারণে অ্যান্টিবডি টেস্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই টেস্টটি সাধারণত শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা তা শনাক্ত করে, তবে এর ফলাফল সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো পরীক্ষায় ফলস রেজাল্ট তখনই আসে, যখন নমুনা সংগ্রহ, পরিবহন, বা ল্যাব প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকে। ত্রুটি না থাকলে আরটিপিসিআর বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে ফলস ফলের সম্ভাবনা থাকে না। তাই উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।”
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “ল্যাব টেস্টে ভুল ফল আসতে পারে, তবে উপসর্গ থাকলে টেস্টের ফলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মহামারির সময় উপসর্গের চিকিৎসাই প্রাধান্য পায়। যদি উপসর্গ ৭-১০ দিন পরেও থেকে যায়, তবে তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই চিকিৎসা অব্যাহত রাখা জরুরি।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌস বলেন, “উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের টেস্টের আগে আইসোলেশনে থাকতে হবে। মৃদু উপসর্গ হলে বাসায় এবং গুরুতর হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টের ব্যবস্থা করবেন।”
কেন উপসর্গের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
করোনাভাইরাসের উপসর্গ যেমন জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গন্ধ বা স্বাদ হারানো, বা ক্লান্তি দেখা দিলে টেস্টের ফল নেগেটিভ হলেও চিকিৎসা শুরু করা উচিত। কারণ:
- ফলস নেগেটিভ ফলের কারণে ভাইরাস শনাক্ত না হতে পারে, তবে উপসর্গ থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
- উপসর্গ দীর্ঘায়িত হলে ফুসফুস, হৃদয়, বা অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
- মহামারির সময় দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে।
ব্রেন স্ট্রোক প্রতিরোধে অতিরিক্ত পরামর্শ
করোনার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন:
- আইসোলেশন: উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে আলাদা করুন। মৃদু উপসর্গের ক্ষেত্রে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন করুন এবং গুরুতর উপসর্গ হলে হাসপাতালে যান।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: উপসর্গের তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। টেস্টের ফলের জন্য অপেক্ষা না করে চিকিৎসা শুরু করুন।
- পর্যাপ্ত হাইড্রেশন: পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- অক্সিজেন মনিটরিং: শ্বাসকষ্ট হলে পালস অক্সিমিটার দিয়ে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করুন।
- মানসিক স্বাস্থ্য: স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা হালকা ব্যায়াম করুন।
করোনার উপসর্গ থাকলে আরটিপিসিআর বা অ্যান্টিবডি টেস্টের ফল নেগেটিভ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলস নেগেটিভ ফলের কারণে সংক্রমণ উপেক্ষা করলে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত আইসোলেশন এবং চিকিৎসা শুরু করুন। নিজের এবং সমাজের সুরক্ষার জন্য সচেতন হোন এবং স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলুন!
