কোলন ক্যান্সার বা বৃহদন্ত্রের ক্যান্সার বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সাধারণ এবং মারাত্মক ক্যান্সারের মধ্যে একটি। এটি ধীরে ধীরে শরীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি ২ মাস আগেই শরীরে কিছু প্রাথমিক সংকেত দিয়ে থাকে। এই লক্ষণগুলো চিনে রাখা এবং সময়মতো পরীক্ষা করানো জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সতর্কতার মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—কোলন ক্যান্সারের ২ মাস আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
১. অন্ত্রের অভ্যাসে পরিবর্তন
কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পায়খানা বা অন্ত্রের অভ্যাসে পরিবর্তন।
- ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের হঠাৎ পুনরাবৃত্তি
- পাতলা বা বৃত্তাকার পায়খানা
- হঠাৎ টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করা
এই ধরনের পরিবর্তন দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে সতর্ক হওয়া উচিত।
২. রক্তপাত বা পায়খানায় রঙের পরিবর্তন
বৃদ্বিত ক্যান্সারের কারণে অন্ত্রে রক্তপাত হতে পারে।
- পায়খানায় রক্ত দেখা
- কালচে বা লাল রঙের রক্তমিশ্রিত মল
- অনিয়মিত রক্তপাত বা লেগে থাকা রক্ত
রক্তপাতকে সাধারণ হজমের সমস্যা মনে করলে বিপদ হতে পারে।
৩. পেটের ব্যথা ও ফেঁপে যাওয়া
প্রাথমিক কোলন ক্যান্সারে পেটের ব্যথা, ফেঁপে যাওয়া বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- হঠাৎ পেটে টান বা অস্বস্তি
- খাবার খাওয়ার পর দ্রুত ফেঁপে যাওয়া
- নিয়মিত ব্যথা যা কিছুতেই কমে না
এই ব্যথা দীর্ঘমেয়াদে ক্রমবর্ধমান হয় এবং রোগের ইঙ্গিত দেয়।
৪. অনিয়মিত ওজন হ্রাস
কোলন ক্যান্সারের কারণে শরীরের ওজন হঠাৎ কমে যেতে পারে, যদিও খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকে।
- অজানা ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- পেশি শক্তি কমে যাওয়া
- সাধারণ জীবনযাত্রায় শারীরিক দুর্বলতা
অনিয়মিত ওজন হ্রাস প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
৫. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শরীরে রক্তাল্পতা বা প্রদাহের কারণে রোগীরা অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করেন।
- সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবসন্ন থাকা
- স্বাভাবিক কাজেও শক্তি কমে যাওয়া
- নিয়মিত ঘুমের পরও শক্তি ফেরে না
৬. হজমে সমস্যা ও খাবার অসহনীয়তা
কোলন ক্যান্সার হজমে সমস্যা, অম্লতা বা খাবার অসহনীয়তা তৈরি করতে পারে।
- খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা বা ব্যথা
- হালকা গ্যাস, অম্লতা বা পেট ফুলে যাওয়া
- হজমের স্বাভাবিকতা হারানো
এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৭. মানসিক অস্থিরতা ও উদ্বেগ
প্রাথমিক কোলন ক্যান্সারে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ে।
- উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা মানসিক চাপ বৃদ্ধি
- কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া
- দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি ও অনিদ্রা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক ধাপে কাল্পনিক পরীক্ষা ও কোলোনোস্কোপি করানো জরুরি।
পরামর্শ:
- ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের নিয়মিত কোলোনোস্কোপি করানো
- দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা অনিয়মিত পায়খানা হলে ডাক্তার দেখানো
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান ও ব্যায়াম
- ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়ানো
কোলন ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে। তাই এই ৭টি সতর্ক সংকেত দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক ধাপে শনাক্তকরণ কেবল জীবন রক্ষা করে না, বরং চিকিৎসার খরচ ও ঝুঁকিও কমায়।
