x
d o c t o r s 2 4
03 Dec

ক্যাটার্যাক্ট বা ছানি সাধারণত বয়সজনিত কারণে তৈরি হলেও অনেকের চোখে এটি ধীরে ধীরে এমনভাবে গড়ে ওঠে যে শুরুতে বোঝাই যায় না। আশ্চর্যজনক তথ্য হলো— বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ছানি তৈরি হওয়ার প্রায় ৮–১২ মাস আগেই চোখ ও শরীর কিছু স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে শুরু করে। এগুলো ভালভাবে লক্ষ্য করলে অন্ধত্ব বা দৃষ্টিহানি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নিচে ক্যাটার্যাক্ট হওয়ার ১ বছর আগে যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

১) রাতের বেলা দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া—‘নাইট গ্লেয়ার’ আগেভাগে শুরু হয়

ক্যাটার্যাক্টের প্রথম দিককার এবং সবচেয়ে উপেক্ষিত লক্ষণ হলো রাতে আলো দেখলে গ্লেয়ার বা হ্যালো দেখা।
যেমন—

  • গাড়ির হেডলাইট
  • রাস্তার ল্যাম্প
  • ঘরের সাদা আলো
    সব কিছুতেই আলো ছড়িয়ে বা ছাতার মতো মনে হয়।

কেন হয়?
লেন্সের ভেতরের প্রোটিনগুলো জমাট বাঁধতে শুরু করলে আলোর প্রতিফলন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রথম দিকে এই পরিবর্তন দিনভর চোখে অনুভূত না হলেও রাতে চোখের পিউপিল বড় হওয়ার কারণে সমস্যা বেশি ধরা পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্যাটার্যাক্ট রোগী সার্জারির এক বছর আগে থেকেই এই গ্লেয়ার সমস্যায় ভোগেন।

২) চশমায় ফ্রিকোয়েন্ট পাওয়ার চেঞ্জ

এই লক্ষণ অনেকেই ভুল করে ভাবেন ‘চোখের পাওয়ার বেড়ে গেছে’, কিন্তু আসলে এটি ক্যাটার্যাক্ট শুরুর আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।

যা দেখা যায়—

  • কয়েক মাস পরপর চশমা বদলাতে হয়
  • দূরের জিনিস অস্পষ্ট লাগে
  • কাছে কাজ করতে গিয়ে চোখ কুঁচকে যায়

কারণ হলো চোখের লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলাটে হওয়া শুরু করে, যার ফলে রিফ্র্যাকটিভ পাওয়ার বারবার পরিবর্তিত হয়।
চোখের ডাক্তাররা বলছেন, ৬–১২ মাসে দু’বার চশমার পাওয়ার বদলানোর প্রয়োজন হলে ছানির প্রাথমিক পর্যায়টি শুরু হয়েছে কিনা পরীক্ষা করা জরুরি।

৩) রঙের তীব্রতা কমে যাওয়া — সবকিছু হলদেটে দেখায়

অনেকেই বুঝতে পারেন না যে রঙ হালকা বা ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষ করে—

  • সাদা রঙ হলুদাভ
  • নীল রঙ ধুসর
  • উজ্জ্বল রঙগুলো ফ্যাকাশে মনে হয়

কেন?
লেন্সের নিউক্লিয়ার অংশে ধীরে ধীরে মেলানিন ও অক্সিডেটিভ পরিবর্তন হতে থাকে, যা রঙের পিউরিটি নষ্ট করে। চশমা বদলালেও এই সমস্যা সমাধান হয় না। এই পরিবর্তন সাধারণত ক্যাটার্যাক্ট তৈরি হওয়ার ৮–১০ মাস আগে থেকেই শুরু হয়।

৪) চোখ দ্রুত ক্লান্ত হওয়া বা আলোতে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা

ক্যাটার্যাক্টের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই উল্লেখ করেন—

  • সূর্যের আলোতে চোখ কুঁচকে যায়
  • দুপুরবেলায় বাইরে গেলে মাথা ধরার মতো অনুভূতি
  • কিছুক্ষণ পড়াশোনা করলেই চোখ জ্বালা করে
  • ড্রাই আইয়ের মতো অস্বস্তি

এগুলো ঘটে কারণ চোখের লেন্স আলো ফিল্টার করতে সমস্যায় পড়ে। এর সঙ্গে চোখের পেশিগুলোর ওপর চাপও বেড়ে যায়, ফলে চোখ সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বহুক্ষেত্রে এই সমস্যা ১ বছর আগেই উপস্থিত থাকে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটিকে সাধারণ চোখ জ্বালা বলে এড়িয়ে যান।

কেন এত আগেই দেখা দেয় এই লক্ষণগুলো?

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা—

  • চোখের লেন্সের ভেতরে প্রোটিন ভাঙা বা জমাট বাঁধা শুরু হয় অনেক আগেই
  • অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়লে লেন্সের স্বচ্ছতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়
  • অতিবেগুনি রশ্মি, ডায়াবেটিস, ধূমপান, ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করে

এ কারণেই ছানি দৃশ্যমানভাবে দেখা দিতে সময় লাগে, কিন্তু ফাংশনাল পরিবর্তন অনেক আগেই শুরু হয়।

শনাক্তের পর করণীয়

  • বার্ষিক চোখ পরীক্ষা (বিশেষত ৫০ বছরের পর)
  • UV প্রটেকশন সমৃদ্ধ সানগ্লাস ব্যবহার
  • ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার (গাজর, পালং, মাছ)
  • ধূমপান পুরোপুরি ত্যাগ

প্রাথমিক পর্যায়ে ছানি থামানো যায় না, তবে এর অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব।

ক্যাটার্যাক্ট হঠাৎ তৈরি হয় না; এটি ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু তার আগের ১ বছরেই শরীর ও চোখ স্পষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে। যারা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করেন না, তারা এই সিগনালগুলো উপেক্ষা করে ফেলেন। আগেভাগে সচেতন হলে ছানি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave A Comment