x
d o c t o r s 2 4
15 Jan

গনোরিয়া (Gonorrhea) একটি বহুল পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক যৌনবাহিত রোগ (STI), যার জন্য দায়ী Neisseria gonorrhoeae নামের ব্যাকটেরিয়া। বিশ্বজুড়ে তরুণ ও যৌনভাবে সক্রিয় মানুষের মধ্যে এই সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—গনোরিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না।

তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। এই আগাম লক্ষণগুলো বুঝে ব্যবস্থা নিতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা যেমন বন্ধ্যত্ব বা পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নিচে গনোরিয়ার ১ সপ্তাহ আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—

১. প্রস্রাবের সময় জ্বালা ও অস্বস্তি

গনোরিয়ার আগাম পর্যায়ে মূত্রনালিতে হালকা প্রদাহ শুরু হয়। এর ফলে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত ধরা পড়ে, আর নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় খুব হালকা হওয়ায় উপেক্ষিত থাকে। অনেকেই এটিকে পানিশূন্যতা বা সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন ভেবে গুরুত্ব দেন না, যা রোগ নির্ণয়ে দেরি ঘটায়।

২. অস্বাভাবিক স্রাবের সূচনা

সংক্রমণের এক সপ্তাহ আগেই যৌনাঙ্গ থেকে স্বাভাবিকের বাইরে স্রাব শুরু হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ থেকে সাদা, হলুদ বা সবুজাভ ঘন স্রাব দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে সকালে। নারীদের ক্ষেত্রে যোনি স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, রং বদলে যাওয়া বা দুর্গন্ধ অনুভূত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। এই স্রাব অনেক সময় সাময়িক মনে হলেও এটি ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবিস্তার শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

৩. তলপেট, অণ্ডকোষ বা পেলভিকে হালকা ব্যথা

গনোরিয়া শরীরে ছড়াতে শুরু করলে তলপেট বা পেলভিক অঞ্চলে হালকা ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে ভারী ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, আর নারীদের ক্ষেত্রে এটি মাসিকের ব্যথার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। এই ব্যথা সাধারণত স্থায়ী না হলেও বারবার ফিরে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস।

নীরব গনোরিয়া কেন বেশি বিপজ্জনক

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের প্রায় ৫০–৬০ শতাংশ এবং পুরুষদের প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে গনোরিয়া সম্পূর্ণ লক্ষণহীন অবস্থায় থাকতে পারে। এই “নীরব সংক্রমণ” দীর্ঘদিন অচিকিৎসিত থাকলে নারীদের ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়ায় এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এপিডিডিমাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি করে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী গনোরিয়ার সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে।

কেন আগেভাগে শনাক্ত করা জরুরি

গনোরিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সহজেই নিরাময়যোগ্য। কিন্তু দেরি হলে সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়

নিরাপদ যৌনাচার, কনডম ব্যবহার এবং একাধিক যৌন সঙ্গীর ক্ষেত্রে নিয়মিত STI স্ক্রিনিং গনোরিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। উপরের যেকোনো লক্ষণ কয়েক দিন স্থায়ী হলে লজ্জা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার একমাত্র পথ।

Leave A Comment