x
d o c t o r s 2 4
20 Aug

ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ, এবং এটি ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের শিকার হতে পারে। প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, এবং প্রতি তিনজন ক্যান্সার রোগীর মধ্যে একজন এই রোগে ভোগেন। মে মাস ত্বকের ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। তাই এই সময়ে আসুন জেনে নিই ত্বকের ক্যান্সার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এর প্রতিরোধের উপায়, যাতে আমরা আমাদের ত্বককে এই মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করতে পারি।

ত্বকের ক্যান্সার কী?

ত্বকের ক্যান্সার হল এমন একটি অবস্থা, যখন ত্বকের বাইরের স্তর (এপিডার্মিস) এ অস্বাভাবিক কোষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বাড়তে শুরু করে। এটি সাধারণত ডিএনএ ক্ষতির কারণে ঘটে, যা মিউটেশনকে উৎসাহিত করে। এই মিউটেশনের ফলে ত্বকের কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং টিউমার তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। তবে সুসংবাদ হল, যদি ত্বকের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তবে এটি প্রায়শই সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এবং ন্যূনতম দাগ ফেলে।

ত্বকের ক্যান্সারের প্রধান ধরন
  • বেসাল সেল কার্সিনোমা (বিসিসি): ত্বকের ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন, যা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সাধারণত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়ায় না।
  • স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা: ত্বকের উপরের স্তরে ঘটে এবং দ্রুত চিকিৎসা না করলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • মেলানোমা: সবচেয়ে মারাত্মক ধরন, যা ত্বকের পিগমেন্ট তৈরিকারী কোষে (মেলানোসাইট) শুরু হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • মার্কেল সেল কার্সিনোমা: বিরল কিন্তু আক্রমণাত্মক ক্যান্সার, যা ত্বকের মার্কেল কোষে শুরু হয়।
ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণ

ত্বকের ক্যান্সার ব্যক্তি, ত্বকের ধরন এবং ক্যান্সারের প্রকারভেদে ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। সম্ভাব্য লক্ষণগুলো হল:

  • ত্বকে নতুন দাগ বা আঁচিলের মতো বৃদ্ধি।
  • পুরানো দাগের আকার, রঙ বা আকৃতির পরিবর্তন।
  • চুলকানি, ব্যথা বা রক্তপাত হওয়া ক্ষত যা সারে না।
  • লাল, আঁশযুক্ত বা উত্থিত দাগ যা স্পর্শে অনুভূত হয়।
  • অসম বা অস্পষ্ট সীমানা বিশিষ্ট দাগ।
  • ত্বকের উপরিভাগে চকচকে বা মোমের মতো বৃদ্ধি।
ত্বকের ক্যান্সারের কারণ
  • অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি: সূর্যের আলো এবং ট্যানিং বেড থেকে আসা ইউভি রশ্মি ত্বকের ক্যান্সারের প্রধান কারণ।
  • জেনেটিক কারণ: পরিবারে ত্বকের ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
  • ফর্সা ত্বক: ফর্সা ত্বকের মানুষ ইউভি রশ্মির ক্ষতির প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এইচআইভি বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর ঝুঁকি বাড়ে।
  • রাসায়নিক সংস্পর্শ: কিছু রাসায়নিক, যেমন আর্সেনিক, ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়
  • সানস্ক্রিন ব্যবহার: বাইরে যাওয়ার সময় কমপক্ষে SPF 30 সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর পুনরায় লাগান।
  • ত্বক ঢেকে রাখুন: লম্বা হাতার পোশাক, টুপি এবং সানগ্লাস পরুন।
  • ইউভি রশ্মি এড়ানো: দুপুর ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সূর্যের তীব্র আলো এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা: মাসে একবার নিজের ত্বক পরীক্ষা করুন এবং কোনো অস্বাভাবিক দাগ দেখলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • ট্যানিং বেড এড়ান: কৃত্রিম ইউভি রশ্মি ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান ত্বকের ক্ষতি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ত্বকে কোনো নতুন দাগ, ক্ষত বা আঁচিলের আকার, রঙ বা আকৃতির পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। প্রাথমিক সনাক্তকরণ ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। বায়োপসি, ইমেজিং বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয় করা হয় এবং অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন বা টপিকাল চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিরাময় করা সম্ভব।

Leave A Comment