x
d o c t o r s 2 4
নারীদেহের জটিল সমস্যা অ্যাশারম্যান সিন্ড্রোমের লক্ষণ জেনে নিন
11 Feb

অ্যাশারম্যান সিন্ড্রোম (Asherman’s Syndrome) নারীদেহের একটি জটিল সমস্যা, যেখানে জরায়ুর ভেতরে ক্ষত বা স্কার টিস্যু তৈরি হয়। সাধারণত জরায়ুতে কোনো অস্ত্রোপচার বা ইনফেকশনের পর এটি ঘটে। অনেক নারীই বুঝতে পারেন না যে তাদের জরায়ুর ভেতরে টিস্যুগুলো একে অপরের সাথে লেগে যাচ্ছে, যতক্ষণ না সেটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি চূড়ান্তভাবে ধরা পড়ার অন্তত এক মাস আগে থেকেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে। নিচে এই ৪টি লক্ষণ এবং এই সিন্ড্রোম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অ্যাশারম্যান সিন্ড্রোম শনাক্ত হওয়ার আগে সাধারণত নিচের ৪টি পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা দেয়:

১. মাসিকের রক্তপাত অস্বাভাবিক কমে যাওয়া (Hypomenorrhea): এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ। যদি দেখেন আপনার মাসিকের সময় রক্তপাত আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে এবং তা মাত্র এক বা দুই দিন স্থায়ী হচ্ছে, তবে সতর্ক হতে হবে। জরায়ুর ভেতরে স্কার টিস্যু তৈরি হওয়ার ফলে মাসিকের রক্ত বের হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হয় অথবা জরায়ুর লাইনিং ঠিকমতো তৈরি হতে পারে না।

২. রক্তপাত ছাড়াই তীব্র পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প:

অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় (Amenorrhea), কিন্তু মাসিকের নির্ধারিত সময়ে তীব্র তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয়। একে ‘সাইলেন্ট পিরিয়ড’ বলা যেতে পারে। এর অর্থ হলো জরায়ু রক্ত বের করার চেষ্টা করছে কিন্তু ভেতরের টিস্যু লেগে থাকার কারণে রক্ত আটকে গিয়ে ব্যথার সৃষ্টি করছে।

৩. পেলভিক অঞ্চলে অনবরত অস্বস্তি:

মাসিক ছাড়াও সারা মাস জুড়ে তলপেটে এক ধরণের ভারি ভাব বা অস্বস্তি অনুভব করা। অনেক সময় এই ব্যথা কোমরের নিচের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি জরায়ুর দেয়ালে ক্ষত বা ইনফেকশনের উপস্থিতির জানান দেয়।

৪. গর্ভধারণে ব্যর্থতা বা বারবার গর্ভপাত:

যদি আপনি অন্তত এক মাস ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অথবা কোনো কারণ ছাড়াই বারবার গর্ভপাত হতে থাকে, তবে এটি অ্যাশারম্যান সিন্ড্রোমের লক্ষণ হতে পারে। জরায়ুর ভেতরের টিস্যুগুলো শক্ত হয়ে যাওয়ায় ভ্রূণ জরায়ুর দেয়ালে নিজেকে স্থাপন (Implantation) করতে পারে না।

কেন হয় এই সিন্ড্রোম?

অ্যাশারম্যান সিন্ড্রোম মূলত একটি ‘অর্জিত’ রোগ। অর্থাৎ এটি জন্মগত নয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • ডিএন্ডসি (D&C): গর্ভপাত বা প্রসবের পর জরায়ু পরিষ্কার করার জন্য করা অস্ত্রোপচারের সময় জরায়ুর দেয়ালে আঘাত লাগলে।

  • জরায়ুর অস্ত্রোপচার: সিজারিয়ান সেকশন বা ফাইব্রয়েড অপসারণের মতো সার্জারির পরবর্তী প্রভাব।

  • ইনফেকশন: যক্ষ্মা বা অন্যান্য পেলভিক ইনফেকশনের কারণে জরায়ুর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা

লক্ষণগুলো দেখার পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সাধারণত হিস্টেরোস্কোপি (Hysteroscopy) বা সোনোহিস্টেরোগ্রাফি-র মাধ্যমে জরায়ুর ভেতরের অবস্থা সরাসরি দেখে এই রোগ নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি:

  • অ্যাডহেসিওলাইসিস (Adhesiolysis): হিস্টেরোস্কোপির মাধ্যমে জরায়ুর ভেতরের জোড়া লাগানো টিস্যুগুলো ছাড়িয়ে দেওয়া হয়।

  • হরমোন থেরাপি: অস্ত্রোপচারের পর জরায়ুর লাইনিং পুনরায় তৈরির জন্য ইস্ট্রোজেন হরমোন দেওয়া হয়।

  • বেলুন ক্যাথেটার: পুনরায় টিস্যুগুলো যেন লেগে না যায়, সেজন্য জরায়ুর ভেতরে সাময়িকভাবে একটি বিশেষ বেলুন বা ডিভাইস রাখা হয়।

প্রতিরোধ ও পরামর্শ

জরায়ুতে কোনো ধরণের স্ক্র্যাপিং বা ডিএন্ডসি করানোর সময় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই ধরণের পদ্ধতির পর যদি মাসিক অনিয়মিত হয়ে যায়, তবে দেরি না করে পরীক্ষা করান। দ্রুত চিকিৎসা নিলে জরায়ুর কার্যক্ষমতা এবং উর্বরতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

Leave A Comment