x
d o c t o r s 2 4
28 Nov

খাদ্যে ফাইবার, যা প্রায়শই খাদ্যের অদৃশ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়, পুষ্টির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি শুধু হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে না, বরং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই প্রবন্ধে খাদ্যে ফাইবারের দৈনিক চাহিদা, এর উৎস এবং স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

খাদ্যে ফাইবারের প্রকারভেদ

খাদ্যে ফাইবারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: দ্রবণীয় ফাইবার এবং অদ্রবণীয় ফাইবার।

দ্রবণীয় ফাইবার পানিতে দ্রবীভূত হয়ে একটি জেল-সদৃশ পদার্থ তৈরি করে, যা অন্ত্রের মধ্যে থাকা কোলেস্টেরল এবং শর্করাকে আঠালো করে রক্তে তাদের শোষণ কমিয়ে দেয়।

অদ্রবণীয় ফাইবার পানিতে দ্রবীভূত হয় না এবং মলত্যাগের সময় অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। উভয় প্রকার ফাইবারের সমন্বিত গ্রহণ সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

দৈনিক চাহিদা

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য দৈনিক ফাইবারের চাহিদা ৩৮ গ্রাম এবং মহিলাদের জন্য ২৫ গ্রাম। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ২৮ গ্রাম এবং স্তন্যদানকারিণী মহিলাদের জন্য ২৯ গ্রাম। কিশোর-কিশোরীদের জন্য এই পরিমাণ যথাক্রমে ২৬ থেকে ৩৮ গ্রাম।

সাধারণত বাঙালি খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারের গ্রহণ এই মানের তুলনায় অনেক কম, যা বিভিন্ন হজমজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণের জন্য খাদ্যের মাধ্যমেই এই পরিমাণ অর্জন করা উচিত, কারণ ফাইবার শরীরে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শোষিত হয় না এবং এর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে কখনও কখনও পেট ফোলা বা অন্যান্য অস্বস্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ফাইবারের প্রধান উৎস

খাদ্যে ফাইবারের প্রধান উৎস হলো উদ্ভিদজাত খাবার। দ্রবণীয় ফাইবারের উৎস হিসেবে ডাল, ছোলা, মটরশুটি, সবুজ শাকসবজি, আম, পেয়ারা এবং ওটস উল্লেখযোগ্য।

অদ্রবণীয় ফাইবারের উৎস হলো গোটা শস্য যেমন বাদামী চাল, গমের ভুসি, শালগম, গাজর, বেগুন এবং বিভিন্ন বীজ যেমন চিয়া বীজ বা ফ্ল্যাক্সসিড। ফলমূলের ছালসহ ভোজন এবং সবজির পরিমাণ বাড়ানো ফাইবার গ্রহণ বৃদ্ধির সহজ উপায়।

উদাহরণস্বরূপ, এক কাপ রান্না করা ডালে প্রায় ১৬ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা দৈনিক চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। এছাড়া, সকালের খাবারে ওটস বা গোটা শস্যের রুটি যোগ করলে ফাইবারের পরিমাণ সহজেই বাড়ানো যায়।

সুবিধা এবং সতর্কতা

পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোলেস্টেরল হ্রাস করে। এটি মলত্যাগকে নিয়মিত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তবে, যাদের ফাইবার গ্রহণ কম এবং হঠাৎ এর পরিমাণ বাড়ানো হয়, তাদের মধ্যে প্রথমে পেট ফোলা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য ফাইবার গ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

খাদ্যে ফাইবার হলো সেই পুষ্টি উপাদান, যা সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী উপায়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর। দৈনিক খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, ফলমূল এবং শাকসবজির পরিমাণ বাড়িয়ে এর প্রয়োজনীয় মাত্রা সহজেই পূরণ করা সম্ভব।

সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ফাইবারের নিয়মিত গ্রহণ হজমতন্ত্রের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

Leave A Comment