x
d o c t o r s 2 4
06 Jan

পেরিকার্ডাইটিস হলো হৃদযন্ত্রের চারপাশের পাতলা ঝিল্লি বা পেরিকার্ডিয়ামের প্রদাহজনিত রোগ। যদিও এটি প্রায়ই স্বল্পস্থায়ী হয়, তবুও চিকিৎসা না নিলে ফুসফুস ও হৃদয়ের কার্যকারিতায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে, পেরিকার্ডাইটিস ধরা পড়ার প্রায় ২ সপ্তাহ আগে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এই সংকেতগুলো চিনতে পারলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব এবং জটিলতা এড়ানো যায়।

পেরিকার্ডাইটিস কেন হয়

এই রোগ সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণ বা অটোইমিউন রোগের কারণে হয়। কখনো হৃদরোগের পর সার্জারির ফলে বা ক্যান্সার চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে পেরিকার্ডিয়ামে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ট্রেস ও দীর্ঘমেয়াদি ইনফ্ল্যামেশনও ঝুঁকি বাড়ায়।

নিচে পেরিকার্ডাইটিসের ২ সপ্তাহ আগে প্রায়ই দেখা দেয় এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. বুকের ব্যথা ও চাপ অনুভূতি

রোগের শুরুতেই বুকের মাঝামাঝি বা বাম পাশে হালকা চাপ বা ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ব্যথা কাঁধ বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে যায়। ব্যথা সাধারণত গভীর নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়, হাঁচি বা কাশি হলে বাড়ে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যথা প্রাথমিক পর্যায়ে অস্পষ্ট হলেও ধীরে ধীরে বারবার অনুভূত হয়।

২. জ্বর ও ক্লান্তি

প্রদাহজনিত কারণে হালকা জ্বর, শরীরের দুর্বলতা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়। এই ক্লান্তি এমন হয় যে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করতেও শরীর ভারী লাগে। চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাসজনিত পেরিকার্ডাইটিসের ক্ষেত্রে জ্বর সবচেয়ে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

৩. শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত হার্টবিট

২ সপ্তাহ আগে থেকেই হালকা শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা দ্রুত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এটি ঘটে পেরিকার্ডিয়ামে প্রদাহ বা তরল জমার কারণে হৃদয় ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারার ফলে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট রাতের দিকে বেশি হয়।

৪. অকারণ ওজন হ্রাস ও খাবারে আগ্রহ কমা

প্রদাহ ও শরীরের অস্বস্তির কারণে খাবারে আগ্রহ কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে অল্প সময়েই ওজন কমে যেতে শুরু করে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, রোগের এই সূক্ষ্ম লক্ষণ প্রাথমিকভাবে উপেক্ষা করা হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

উপরের একাধিক লক্ষণ যদি একসঙ্গে দেখা যায়, বিশেষ করে বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ ওজন হ্রাস লক্ষ্য করা যায়, তখন অবিলম্বে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ইসিজি এবং রক্ত পরীক্ষা দ্বারা পেরিকার্ডাইটিস নির্ণয় করা যায়।

রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা খাদ্য ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত পেরিকার্ডাইটিস সাধারণত স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়, কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা অটোইমিউন সংক্রমণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।

Leave A Comment