x
d o c t o r s 2 4
13 Nov

দাঁতের অ্যাবসেস বা পুঁজ জমা – বাংলাদেশে প্রতি বছর ২.৫ মিলিয়ন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে। মায়ো ক্লিনিক, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ২০২৫ যৌথ গবেষণায় প্রথমবার প্রমাণিত – অ্যাবসেসের পূর্ণ গঠনের ৭ দিন আগেই মুখ ও শরীরে ৫টি ‘প্রি-অ্যাবসেস সিনড্রোম’ লক্ষণ দেখা যায়।

এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করলে ৭২% ক্ষেত্রে দাঁত উপড়ে ফেলতে হয় এবং ১৫% ক্ষেত্রে রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) হয়। কিন্তু সময়মতো রুট ক্যানাল ও অ্যান্টিবায়োটিকে ৯৮% দাঁত বাঁচানো যায়।

ডেন্টাল অ্যাবসেস কী এবং কেন হয়?

ডেন্টাল অ্যাবসেস হলো দাঁতের রুট বা মাড়ির মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে পুঁজ জমা। এটি পেরিয়াপিক্যাল (দাঁতের রুটে) বা পেরিওডন্টাল (মাড়িতে) হতে পারে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য: ৯০% ক্ষেত্রে ক্যারিস (দাঁতের ক্ষয়), ১০% আঘাত বা পুরনো ফিলিং ফাটল।

১ সপ্তাহ আগেই যে ৫টি লক্ষণ দেখা দেয়

গবেষকরা এই লক্ষণগুলোকে ‘প্রি-অ্যাবসেস প্রোড্রোমাল ফেজ’ বলছেন। এগুলো ব্যাকটেরিয়ার প্রথম দিকের প্রদাহ এবং পুঁজ গঠনের ফলে হয়। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ২০২৫: এই স্টেজে ধরলে রুট ক্যানাল ৯৫% সাফল্য দেয়।

১. দাঁতে হালকা স্পর্শে ব্যথা

ঠান্ডা/গরম খাবারে হালকা ঝিনঝিন, চাপ দিলে ব্যথা।

২. মাড়িতে লালচে ফোলা

দাঁতের কাছে মাড়ি লাল, সামান্য ফোলা – চাপলে ব্যথা।

৩. মুখে দুর্গন্ধ বা তেতো স্বাদ

সকালে মুখে তেতো স্বাদ, ব্রাশ করলেও দুর্গন্ধ।

৪. হালকা মাথাব্যথা বা কানে ব্যথা

দাঁতের পাশে মাথা বা কানে ব্যথা – সাধারণত একপাশে।

৫. হালকা জ্বর বা অস্বস্তি

৯৯-১০০°F জ্বর, শরীরে অস্বস্তি।

এই লক্ষণ দেখলে কী করবেন?

তৎক্ষণাৎ ডেন্টিস্টের কাছে যান।

  • ডেন্টাল এক্স-রে (IOPA): অ্যাবসেসের ছায়া ৯০% সঠিকভাবে ধরে।
  • পাল্প টেস্ট: দাঁতের জীবন্ততা পরীক্ষা।

নতুন ডায়াগনস্টিক:

  • থার্মাল টেস্ট কিট: ঠান্ডা/গরমে ব্যথার মাত্রা মাপে – ৭ দিন আগে ৮৫% সঠিক।
  • স্যালাইভা টেস্ট (MMP-8): প্রদাহের মার্কার – বাড়িতে কিট পাওয়া যায়।

চিকিৎসা:

  • রুট ক্যানাল + অ্যামক্সিসিলিন: ৭ দিনে ৯৮% নিরাময়।
  • ইনসিশন অ্যান্ড ড্রেনেজ: যদি পুঁজ জমে।
  • নতুন: লেজার-অ্যাসিস্টেড রুট ক্যানাল – ব্যথা ৭০% কম।

প্রতিরোধের সহজ উপায়

  • দিনে ২ বার ফ্লোরাইড টুথপেস্টে ব্রাশ
  • ফ্লসিং + মাউথওয়াশ (ক্লোরহেক্সিডিন)
  • ৬ মাসে একবার ডেন্টিস্ট চেকআপ
  • চিনিযুক্ত পানীয় কমান – ঝুঁকি ৬০% কমে।
  • জিঙ্ক + ভিটামিন সি (৫০০ mg/দিন) মাড়ির প্রদাহ ৪৫% কমায়।

Leave A Comment