x
d o c t o r s 2 4
22 Jul

প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান, যা পেশী, হাড় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী রাখে। কিন্তু আপনি কি জানেন, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ আপনার ধমনীতে ব্লক সৃষ্টি করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে? সাম্প্রতিক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই নিবন্ধে আমরা জানবো দৈনিক প্রোটিনের সঠিক পরিমাণ এবং অতিরিক্ত সেবনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে।

প্রোটিনের ভূমিকা ও ঝুঁকি

প্রোটিন শরীরের পেশী মেরামত, হাড়ের গঠন, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমেরিকান গবেষকদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ ধমনীতে প্লাক জমা করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় বলা হয়েছে, দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের ২২% এর বেশি প্রোটিন হওয়া উচিত নয়। এর বেশি হলে ধমনীতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, লিউসিন নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা ডিম, মাংস, দুধ এবং অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিনে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, ধমনীর ক্ষতির জন্য দায়ী। ২০২০ সালে ইঁদুরের উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রোটিন দেওয়ার ফলে তাদের ধমনীতে ব্লক তৈরি হয়। মানুষের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখেছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে। এই কোষগুলো ধমনী পরিষ্কার করার পরিবর্তে প্লাক জমিয়ে ধমনীর ক্ষতি করে।

হাসপাতালের রোগীদের জন্য সতর্কতা

গবেষকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায়ই পেশী শক্তিশালী করার জন্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু এটি তাদের হৃৎপিণ্ড এবং ধমনীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরিবর্তে, সুষম খাদ্যের উপর জোর দেওয়া উচিত, যাতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের সঠিক ভারসাম্য থাকে।

উদ্ভিদভিত্তিক বনাম প্রাণীজ প্রোটিন

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন (যেমন ডাল, মটরশুঁটি, বাদাম) এবং প্রাণীজ প্রোটিনে (যে�মন মাংস, ডিম, দুধ) লিউসিনের পরিমাণ ভিন্ন। উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনে লিউসিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, যা ধমনীর জন্য কম ক্ষতিকর হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

দৈনিক প্রোটিনের সঠিক পরিমাণ

প্রোটিনের চাহিদা বয়স, ওজন, এবং শারীরিক কার্যকলাপের উপর নির্ভর করে। সাধারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: প্রতি কিলোগ্রাম শরীরের ওজনের জন্য ০.৮ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ৬০ কেজি ওজনের একজন ব্যক্তির দৈনিক ৪৮-৭২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
  • শিশুদের জন্য: বয়স অনুযায়ী প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে ১.০-১.৬ গ্রাম প্রোটিন।
  • ক্রীড়াবিদ বা ব্যায়ামকারীদের জন্য: প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে ১.২-২.০ গ্রাম প্রোটিন।

দৈনিক ক্যালরির ১০-২২% প্রোটিন থেকে আসা উচিত। অতিরিক্ত প্রোটিন এড়াতে প্রোটিন শেক বা সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে প্রাকৃতিক খাবারের উপর নির্ভর করুন।

প্রোটিন গ্রহণের স্বাস্থ্যকর উপায়

প্রোটিনের সুবিধা পেতে এবং ক্ষতি এড়াতে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন:

  • সুষম খাদ্য: প্রোটিনের পাশাপাশি ফল, শাকসবজি, আস্ত শস্য, এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন অ্যাভোকাডো, বাদাম) খান।
  • উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন বাড়ান: ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বীজ, এবং কুইনোয়ার মতো উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন ধমনীর জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।
  • প্রাণীজ প্রোটিন সীমিত করুন: লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খান। মাছ, মুরগি, এবং ডিম মাঝারি পরিমাণে খান।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: আয়রন শোষণে সহায়তা করতে কমলা, লেবু, বা পেঁপে খান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ: হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিরা প্রোটিন গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • হাইড্রেশন: অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণ ধমনীতে প্লাক জমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সুষম খাদ্য এবং মাঝারি পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণের মাধ্যমে আপনি স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে পারেন এবং ঝুঁকি এড়াতে পারেন। আজই আপনার খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য আনুন এবং সুস্থ জীবন উপভোগ করুন!

Leave A Comment