বার্ধক্য মানেই বিছানায় শুয়ে থাকা নয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশির ভর কমে যাওয়া বা ‘সারকোপেনিয়া’ (Sarcopenia) একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বয়স্কদের প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম হলো পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যাওয়া বা ‘ফল ইনজুরি’।
পতন প্রতিরোধের উপায়:
-
ভারসাম্যের ব্যায়াম: বয়স্কদের জন্য তাই-চি (Tai Chi) বা এক পায়ে দাঁড়ানোর মতো ব্যালেন্স এক্সারসাইজ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি মস্তিষ্কের সাথে পায়ের স্নায়ুর সংযোগ বাড়ায়।
-
পেশিশক্তি বৃদ্ধি: হালকা ওজনের ডাম্বেল বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করে ব্যায়াম করলে পেশির ক্ষয় রোধ করা যায় এবং হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে।
-
দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা: অনেক সময় বয়স্করা চোখের সমস্যার কারণে হোঁচট খান। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সঠিক চশমা ব্যবহার দুর্ঘটনা কমাতে পারে।
বাড়ির পরিবেশ ও নিরাপত্তা:
ঘরের মেঝতে কার্পেট বা পাপোষ যেন পিচ্ছিল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাথরুমে গ্র্যাব বার (Grab bar) বা হাতল লাগানো এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা পতন প্রতিরোধের অন্যতম শর্ত।
পুষ্টির ভূমিকা:
হাড় ও পেশির শক্তির জন্য ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন অপরিহার্য। দুধ, দই, ছোট মাছ এবং পনির নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। মনে রাখবেন, গতিশীলতাই জীবন। নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটা বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক—উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই জাদুকরী।
