x
d o c t o r s 2 4
06 Jan

মায়োকার্ডাইটিস হলো হৃদপিণ্ডের পেশী বা মায়োকার্ডিয়ামের প্রদাহজনিত রোগ, যা কখনো হঠাৎ প্রগাঢ় সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও অনেক সময় এটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়া বা অটোইমিউন রোগের কারণে হয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর প্রায় ১ মাস আগে থেকেই প্রাথমিক সতর্ক সংকেত পাঠাতে শুরু করে।

এই সংকেতগুলো সময়মতো চিনতে পারলে গুরুতর জটিলতা ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

মায়োকার্ডাইটিস কেন হয়

মায়োকার্ডাইটিসের প্রধান কারণ ভাইরাস সংক্রমণ, যেমন করোনাভাইরাস, এডিনোভাইরাস বা কক্সসাক্কি ভাইরাস। কখনো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অটোইমিউন রোগও হৃদপেশিতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, ভ্যাকসিন বা দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ধীরে ধীরে হৃদপেশিতে প্রদাহ শুরু হয়, যার ফলে শরীর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ প্রকাশ করে।

নিচে মায়োকার্ডাইটিসের ১ মাস আগে দেখা দেয় এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. অকারণ ক্লান্তি ও দুর্বলতা

রোগের শুরুতেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়। স্বাভাবিক কাজের পরও শরীর ভারী মনে হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদাহজনিত সাইটোকাইন শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যার ফলে এই ক্লান্তি তৈরি হয়।

২. বুকের ব্যথা ও চাপ অনুভূতি

১ মাস আগে থেকেই অনেক রোগীর বুকের মাঝামাঝি বা বাম পাশে হালকা চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথা কখনো কাঁধ বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে যায়। গভীর নিঃশ্বাস, হাঁচি বা কাশি করলে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যথা প্রাথমিক পর্যায়ে অল্প হলেও নিয়মিতভাবে অনুভূত হয়।

৩. দ্রুত বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন

হৃদয় সচল থাকলেও অনেকের হার্টবিট অনিয়মিত বা দ্রুত হতে পারে। এটি ঘটে প্রদাহ বা ক্ষতিগ্রস্ত পেশির কারণে হৃদপিণ্ড ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারার ফলে। কিছু ক্ষেত্রে, রাতে বিশ্রামের সময়ও হার্টবিট দ্রুত থাকে।

৪. শ্বাসকষ্ট ও হালকা ঘাম

শারীরিক পরিশ্রম না করেও হালকা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এছাড়া রাতের সময় অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা ঘাম শুকিয়েও শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা লক্ষ করা যায়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পেশির প্রদাহ অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে।

৫. অকারণ জ্বর ও সর্দি

মায়োকার্ডাইটিস প্রাথমিকভাবে ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত থাকায় হালকা জ্বর, ঠান্ডা লাগা বা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় এই লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি বা ফ্লুর সঙ্গে মিলিয়ে উপেক্ষা করা হয়, যা রোগ নির্ণয় ধীর করে দেয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

উপরের একাধিক লক্ষণ যদি একসঙ্গে দেখা যায়, বিশেষ করে বুকের ব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা শ্বাসকষ্ট লক্ষ্য করা যায়, অবিলম্বে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মায়োকার্ডাইটিস নির্ণয় করা যায়।

রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা খাদ্য এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত মায়োকার্ডাইটিসে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সংক্রমণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জীবনের ঝুঁকি কমায়।

Leave A Comment