x
d o c t o r s 2 4
রক্তে ক্ষারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে কীভাবে বুঝবেন?
19 Feb

আমাদের শরীরের রক্তে অম্ল (Acid) এবং ক্ষারের (Base) একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় থাকে। যখন রক্তে ক্ষারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন সেই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় মেটাবলিক অ্যালকালোসিস। এটি সাধারণত শরীরে ইলেকট্রোলাইট বা খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে, অতিরিক্ত বমি হলে বা কিডনির সমস্যায় দেখা দেয়।

অনেকে মনে করেন এটি হঠাৎ করেই ঘটে, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে মেটাবলিক অ্যালকালোসিস পূর্ণরূপে প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ১ মাস আগে থেকেই শরীর কিছু নীরব সংকেত দিতে শুরু করে। এই ৬টি লক্ষণ চিনে নিলে আপনি বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।

১. হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব (Paresthesia)

রক্তে ক্ষারের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে শরীরের ক্যালসিয়াম বিপাক বিঘ্নিত হয়। মেটাবলিক অ্যালকালোসিসের অন্তত ১ মাস আগে থেকেই আপনি লক্ষ্য করতে পারেন যে আপনার হাতের আঙুল, পায়ের পাতা বা মুখের চারপাশে মাঝেমধ্যেই ঝিঁঝিঁ ধরছে বা সুঁই ফোটানোর মতো অনুভূতি হচ্ছে। এটি স্নায়বিক উদ্দীপনার একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা।

২. মাংসপেশিতে খিঁচুনি ও দুর্বলতা

পটাশিয়ামের অভাব মেটাবলিক অ্যালকালোসিসের একটি প্রধান কারণ এবং লক্ষণ। ১ মাস আগে থেকেই আপনার পেশিতে টান লাগা বা হঠাত্‍ করে মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় পায়ের পেশিতে তীব্র খিঁচুনি হওয়া শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষারের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়।

৩. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভাব

রক্তের pH লেভেল যখন সামান্য পরিবর্তিত হয়, তখন কোষগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে কোনো কঠোর পরিশ্রম না করেও আপনি সারাদিন ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। ১ মাস আগে থেকে শুরু হওয়া এই ক্লান্তি সাধারণ ঘুমের অভাবের চেয়ে আলাদা; এটি এক ধরণের দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ যা বিশ্রাম নিলেও কাটে না।

৪. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Palpitations)

ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা সরাসরি হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেতকে প্রভাবিত করে। মেটাবলিক অ্যালকালোসিসের ১ মাস আগে থেকেই আপনি অনুভব করতে পারেন যে আপনার বুক হঠাত্‍ ধড়ফড় করছে বা হৃদস্পন্দনের গতি মাঝে মাঝে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। একে অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৫. বারবার বমি বমি ভাব ও হজমে সমস্যা

শরীরে বাইকার্বনেটের মাত্রা বেড়ে গেলে পাকস্থলীর স্বাভাবিক অম্লীয় পরিবেশ নষ্ট হয়। এর ফলে খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি, বারবার বমি বমি ভাব বা খাবারে অরুচি দেখা দিতে পারে। যদি এক মাস ধরে নিয়মিতভাবে আপনার হজমে গোলযোগ দেখা দেয়, তবে এটি কেবল গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নাও হতে পারে।

৬. মানসিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি (Confusion)

রক্তে ক্ষারের আধিক্য মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। ১ মাস আগে থেকেই রোগী ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্ত হওয়া, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা বা হঠাত্‍ করে কোনো বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়ার মতো আচরণ করতে পারেন। এই সূক্ষ্ম মানসিক পরিবর্তনগুলো মেটাবলিক অ্যালকালোসিসের একটি বড় স্নায়বিক লক্ষণ।

প্রতিরক্ষায় আপনার করণীয়

মেটাবলিক অ্যালকালোসিস মূলত একটি উপসর্গ, যা অন্য কোনো রোগের কারণে ঘটে। ১ মাস ধরে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে আপনার যা করা উচিত:

  • ইলেকট্রোলাইট প্যানেল টেস্ট: রক্তের পটাশিয়াম, ক্লোরাইড এবং বাইকার্বনেট লেভেল পরীক্ষা করুন।

  • পর্যাপ্ত পানি ও লবণের ভারসাম্য: ডায়রিয়া বা বমির সমস্যা থাকলে দ্রুত ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করুন।

  • ওষুধের ব্যবহারে সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মূত্রবর্ধক (Diuretics) বা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ দীর্ঘকাল সেবন করবেন না।

মেটাবলিক অ্যালকালোসিস সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি শ্বাসকষ্ট বা কোমায় নিয়ে যেতে পারে। তাই শরীরের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্ব দিন।

Leave A Comment