x
d o c t o r s 2 4
07 Nov

কপার—একটি সাধারণ ধাতু, কিন্তু শরীরের জন্য অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, আয়রন শোষণ এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মানুষ অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, এবং বাংলাদেশে এই হার ৪০% ছাড়িয়েছে। কপারের অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, কপার শুধু রক্ত গঠনই নয়, আলঝাইমার, পারকিনসনের মতো স্নায়বিক রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ।

কপার সেরুলোপ্লাজমিন এনজাইমের সাথে যুক্ত হয়ে আয়রনকে ফেরাস (Fe²⁺) থেকে ফেরিক (Fe³⁺) অবস্থায় রূপান্তরিত করে, যা হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণের জন্য জরুরি। ২০২৪ সালের একটি গবেষণা (The Lancet Haematology) জানাচ্ছে, কপারের অভাবে আয়রন সাপ্লিমেন্ট একাই কার্যকর হয় না—এটি অ্যানিমিয়ার ২৫% ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণ।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণা (Nature Neuroscience) দেখিয়েছে, কপার মস্তিষ্কে সিন্যাপটিক ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কপার-ট্রান্সপোর্টার প্রোটিন ATP7A-এর মাধ্যমে নিউরনে প্রবেশ করে ডোপামিন ও নোরএপিনেফ্রিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য রক্ষা করে। গবেষণায় ৮০০ জন বয়স্ক অংশগ্রহণকারীর উপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, রক্তে কপারের মাত্রা ৭০-১১০ μg/dL-এর নীচে থাকলে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি ৩২% বাড়ে। আরেকটি আশ্চর্যজনক তথ্য—কপারের অভাব শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD)-এর সাথে যুক্ত। Journal of Neurodevelopmental Disorders-এর ২০২৪ রিপোর্ট বলছে, ASD আক্রান্ত শিশুদের ৪৫% ক্ষেত্রে কপার-জিঙ্ক অনুপাত অস্বাভাবিক (০.৮-এর নীচে)।

বাংলাদেশে কপারের অভাব গ্রামীণ এলাকায় বেশি। বাংলাদেশ নিউট্রিশন ইনস্টিটিউট (NIN)-এর ২০২৪ সমীক্ষায় দেখা গেছে, গর্ভবতী নারীদের ৫৮% কপারের মাত্রা স্বাভাবিকের নীচে (৮০ μg/dL-এর কম), ফলে নবজাতকের মধ্যে নিউরোলজিকাল সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

কপার প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় কলিজা (১০০ গ্রামে ১৪ মিলিগ্রাম), ঝিনুক, চিংড়ি, বাদাম (কাজু, আখরোট), ডার্ক চকোলেট (৭০% কোকো), মাশরুম ও পুরো শস্যে। প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক চাহিদা ৯০০ মাইক্রোগ্রাম (NIH অনুযায়ী)। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জিঙ্কের অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট কপার শোষণ কমায়। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কপার গ্লুকোনেট বা কপার সালফেট নিরাপদ, কিন্তু ১০ মিলিগ্রামের বেশি গ্রহণে বিষক্রিয়া (বমি, লিভার ক্ষতি) হতে পারে।

উইলসন রোগে আক্রান্তদের কপার এড়িয়ে চলতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য কপার-সমৃদ্ধ খাবারই যথেষ্ট। নতুন গবেষণায় কপার ন্যানোপার্টিকল ব্যবহার করে স্নায়ু পুনর্জননের চেষ্টা চলছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে চিকিৎসায় আসতে পারে।

Leave A Comment