x
d o c t o r s 2 4
13 Oct

শীত আসলেই অনেকের পরিচিত অভিযোগ—জয়েন্টে ব্যথা বা গাঁটে ব্যথা বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর, কাঁধ বা আঙুলের সংযোগস্থলে ব্যথা ও কাঠিন্য অনুভূত হয়। অনেকে মনে করেন এটি শীতের ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি শুধুমাত্র আবহাওয়ার কারণে নয়; বরং রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন, পেশির সংকোচন ও চলাফেরার কমে যাওয়াই প্রধান কারণ।

এই সময়টাতে সামান্য যত্ন ও শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখলে জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শীতকালে জয়েন্টে ব্যথা কেন বাড়ে

চিকিৎসকদের মতে, তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়। ফলে জয়েন্টে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে ব্যথা ও জড়তা তৈরি করে। পাশাপাশি শীতকালে মানুষ সাধারণত কম নড়ে-চড়ে, ফলে পেশির নমনীয়তা কমে যায়, যা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

মূল কারণগুলো হলো:
ঠান্ডায় রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়া
পেশি ও টিস্যুর শক্ত হয়ে যাওয়া
চলাফেরা ও ব্যায়াম কমে যাওয়া
বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্তদের প্রদাহ বৃদ্ধি
হরমোন ও স্নায়ুর সংবেদনশীলতার পরিবর্তন

যাদের ঝুঁকি বেশি

শীতকালে জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি বেশি থাকে নিচের গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে—

  • বয়স্ক ও বাত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • পূর্বে জয়েন্ট ইনজুরির ইতিহাস রয়েছে এমন রোগী
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা আছে যাদের
  • যারা শারীরিকভাবে কম সক্রিয়
  • ডায়াবেটিস বা রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যায় ভুগছেন

সাধারণ উপসর্গ

  • জয়েন্টে ব্যথা ও ফুলে যাওয়া
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জড়তা
  • নড়াচড়া করতে কষ্ট
  • জয়েন্টে ‘ক্র্যাকিং’ শব্দ
  • ঠান্ডা লাগলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া

উষ্ণতা ও যত্নই সমাধানের মূল

শীতকালে জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ ও উপশমে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উষ্ণতা বজায় রাখা।

প্রতিরোধ ও যত্নের পরামর্শ:

১. শরীর গরম রাখুন: উষ্ণ পোশাক, হাতমোজা ও মোজা পরুন। রাতে গরম কম্বল ব্যবহার করুন।
২. গরম সেঁক দিন: গরম পানির ব্যাগ বা হট প্যাক দিয়ে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিলে রক্তপ্রবাহ বাড়ে।
৩. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন: যোগব্যায়াম, হাঁটা বা স্ট্রেচিং জয়েন্ট নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: ঠান্ডায় পানি কম খাওয়ার প্রবণতা থাকে, কিন্তু শরীর হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৫. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: মাছ, দুধ, বাদাম ও ভিটামিন ডি–সমৃদ্ধ খাবার জয়েন্টের স্বাস্থ্যে সহায়ক।
৬. সূর্যের আলোতে থাকুন: সকালে কিছুক্ষণ রোদে থাকলে ভিটামিন ডি উৎপাদন হয়, যা হাড় ও জয়েন্ট শক্ত রাখে।

চিকিৎসা ও করণীয়

যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা ফুলে যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • প্রাথমিকভাবে পেইন রিলিফ ক্রিম, গরম সেঁক ও ফিজিওথেরাপি করা যেতে পারে।
  • বাত বা আর্থ্রাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।
  • অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জয়েন্টের উপর চাপ কমায়।

 

Leave A Comment