x
d o c t o r s 2 4
14 Dec

শীতের আগমনে সর্দি-কাশির সঙ্গে গলা ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে ওঠে। অনেকে ভাবেন, গলা ব্যথা মানেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলা দরকার। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গাইডলাইন অনুসারে, এটি সবসময় সঠিক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সিডিসি-র মতে, গলা ব্যথার ৯০% ক্ষেত্রে ভাইরাসের কারণে হয়, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না।

অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়, যা ভবিষ্যতে গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন করে তোলে। আসুন জেনে নিই শীতে গলা ব্যথার প্রধান কারণগুলো এবং অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার।

শীতে গলা ব্যথার প্রধান কারণসমূহ

শীতকালে গলা ব্যথা বাড়ার পেছনে পরিবেশগত এবং সংক্রমণজনিত কারণগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় (২০২৪-২০২৫) দেখা গেছে, শুষ্ক বাতাস এবং ইনডোর হিটিং গলার টিস্যু শুকিয়ে জ্বালা সৃষ্টি করে।

  • শুষ্ক বাতাস এবং কম আর্দ্রতা: শীতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস এবং ঘরের হিটার বাতাসকে শুষ্ক করে। এতে গলার মিউকাস মেমব্রেন শুকিয়ে যায়, যার ফলে খুসখুসে ভাব এবং ব্যথা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ইউটা হেলথের ২০২৪ রিপোর্ট অনুসারে, শীতে নাক-মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় শরীরকে বাতাস গরম ও আর্দ্র করতে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়, যা গলায় অস্বস্তি বাড়ায়।
  • ভাইরাল সংক্রমণ: সর্দি, ফ্লু বা অন্যান্য শ্বাসকষ্টের ভাইরাস (যেমন রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা) শীতে বেশি ছড়ায়। লোকজন ঘরের ভিতরে বেশি সময় কাটানোর কারণে সংক্রমণ সহজে হয়। এতে গলা ব্যথার সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর বা নাক দিয়ে পানি পড়া দেখা যায়।
  • অ্যালার্জি এবং ইনডোর অ্যালার্জেন: ঘরের ধুলো, পোষ্যের লোম, ছত্রাক বা মোল্ড শীতে বেড়ে যায়, যা পোস্ট-নেজাল ড্রিপ সৃষ্টি করে গলায় জ্বালা করে।
  • ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ: মাত্র ১০-১৫% ক্ষেত্রে গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস (স্ট্রেপ থ্রোট) ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, উচ্চ জ্বর, গলায় সাদা দাগ এবং লিম্ফ নোড ফোলা দেখা যায়—কিন্তু সর্দি-কাশি থাকে না।

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার: কখন দরকার, কখন নয়?

সিডিসি এবং আইডিএসএ-র ২০২৪-২০২৫ গাইডলাইন অনুসারে, গলা ব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়াল (স্ট্রেপ) সংক্রমণ নিশ্চিত হলে দেওয়া উচিত। ভাইরাল ক্ষেত্রে এটি কোনো উপকার করে না, বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (ডায়রিয়া, অ্যালার্জি) এবং রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়।

  • কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন? র‍্যাপিড স্ট্রেপ টেস্ট বা থ্রোট কালচারে স্ট্রেপ পজিটিভ হলে। সাধারণত অ্যামোক্সিসিলিন বা পেনিসিলিন ১০ দিনের কোর্স দেওয়া হয়। এতে ব্যথা ১-২ দিনে কমে এবং জটিলতা (রিউম্যাটিক ফিভার) প্রতিরোধ হয়।
  • কখন এড়িয়ে চলবেন? যদি সর্দি, কাশি বা অন্যান্য ভাইরাল লক্ষণ থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫-৭ দিনে নিজে থেকে সেরে যায়।

প্রতিরোধ এবং ঘরোয়া উপশম

শীতে গলা ব্যথা এড়াতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন, প্রচুর পানি পান করুন এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। উপশমের জন্য লবণ পানিতে গার্গল, মধু-আদা চা বা ওটিসি পেইন রিলিভার (প্যারাসিটামল) ব্যবহার করতে পারেন। যদি ব্যথা ৭ দিনের বেশি থাকে বা উচ্চ জ্বর হয়, তাহলে ডাক্তার দেখান।

Leave A Comment