x
d o c t o r s 2 4
26 Nov

শীত এলেই অনেক মানুষের হাঁটু, কাঁধ, কোমর বা আঙুলের জয়েন্টে ব্যথা, টান বা শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট বা পুরোনো আঘাতজনিত সমস্যা রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি আরও তীব্র হয়। কেন শীতে জয়েন্ট শক্ত হয়? আর কীভাবে উষ্ণতা ও ব্যায়াম দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন কিছু নতুন তথ্য।

শীতে জয়েন্ট শক্ত হওয়ার পেছনে যে বৈজ্ঞানিক কারণগুলো আছে

  • রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া:
    তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে ত্বক ও বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এর ফলে জয়েন্টের আশপাশের পেশি শক্ত হয়ে যায়, ব্যথা বাড়ে।
  • সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের আঠালোভাব বাড়ে:
    জয়েন্টের ভেতরে থাকা তরল (synovial fluid) ঠান্ডায় তুলনামূলক ঘন হয়ে যায়। এতে জয়েন্ট নড়াচড়া ধীর হয়, শক্ত লাগতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে—শরীরের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমলে ফ্লুইডের ভিসকোসিটি ১০–২০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
  • ব্যথা সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি:
    ঠান্ডা আবহাওয়া স্নায়ুর ব্যথা অনুভবের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
  • শরীরচর্চা কমে যাওয়া:
    শীতে অনেকেই বাইরে বেরোতে বা ব্যায়াম করতে অনীহা বোধ করেন। এতে জয়েন্ট বেশি সময় স্থির থাকে, শক্ত হয়ে যায়।

উষ্ণতা: শীতে জয়েন্টের সেরা বন্ধু

জয়েন্ট শক্ত হওয়া কমাতে উষ্ণতা বজায় রাখা অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • গরম পানি সেঁক (Warm Compress): দিনে ২–৩ বার ১০–১৫ মিনিট সেঁক দিলে পেশির টান কমে ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
  • হালকা গরম পানিতে গোসল: গরম পানির গোসল জয়েন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে শিথিল করে এবং ব্যথা কমায়।
  • থার্মাল সাপোর্ট বা নিং ক্যাপ: হাঁটু বা কবজির মতো স্পর্শকাতর অংশে থার্মাল সাপোর্ট ব্যবহার করলে স্থায়ী উষ্ণতা বজায় থাকে।
  • বিছানায় ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট: বিশেষ করে বয়স্ক যারা, তাদের জন্য খুব উপকারী—জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

শীতে জয়েন্ট ঠিক রাখতে যে ব্যায়ামগুলো সবচেয়ে কার্যকর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—উষ্ণতার পাশাপাশি ব্যায়ামই জয়েন্ট শক্ত হওয়ার সমস্যা কমানোর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

১. স্ট্রেচিং (Stretching)

হাঁটু, কাঁধ, হাত, কোমর—প্রতিটি অংশে হালকা স্ট্রেচিং দিনে ১০–১৫ মিনিট করলে জয়েন্টের গতিশীলতা বাড়ে।

২. রেঞ্জ অব মোশন ব্যায়াম (ROM Exercise)

ধীরে ধীরে জয়েন্ট ঘোরানো, ফ্লেক্স করা—এগুলো জয়েন্টের লুব্রিকেশন বাড়ায় এবং শক্তভাব কমায়।

৩. হালকা হাঁটা (Light Walking)

শীতেও প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট হাঁটা উচিত। এতে রক্ত চলাচল উন্নত হয় ও জয়েন্ট দীর্ঘ সময় স্থবির থাকে না।

৪. জলচর্চা বা হট-ওয়াটার এক্সারসাইজ

গরম পানিতে ব্যায়াম করলে (যেমন পানি হাঁটা, পানি সাইক্লিং) জয়েন্টে চাপ কম পড়ে। বর্তমানে দেশের কিছু ফিজিওথেরাপি সেন্টারে এই সুবিধা পাওয়া যায়।

খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন জরুরি

  • ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, বাদাম, অলিভ অয়েল) প্রদাহ কমায়।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে—শীতে অনেকেই পানি কম পান করেন, এতে জয়েন্ট শুকনো লাগে।
  • ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অস্থি শক্ত রাখে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

  • জয়েন্ট হঠাৎ ফুলে গেলে
  • ব্যথা ৭–১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
  • চলাফেরায় অস্বাভাবিক সমস্যা হলে
  • আঘাতজনিত ব্যথা শীতে আরও বেড়ে গেলে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—শীতে জয়েন্ট শক্ত হওয়ার সমস্যা খুব সাধারণ হলেও সঠিক যত্ন নিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্পূর্ণ সম্ভব।

Leave A Comment