x
d o c t o r s 2 4
সারকোপেনিয়া কী? পেশির ক্ষয়, ব্যায়াম এবং পুষ্টির বিস্তারিত জেনে নিন
24 Feb

সারকোপেনিয়া হলো বয়সজনিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি শক্তি ও ভর ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এটি শুধু শরীরের ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি করে না, বরং দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং  আঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক সতর্কতা ও নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে সারকোপেনিয়ার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সারকোপেনিয়ার প্রধান লক্ষণ

  • পেশির ভর ও শক্তির হ্রাস
    হাত, পা ও কোর পেশিতে শক্তি কমে যাওয়া। হাঁটাচলা বা ভারী কিছু তোলার সময় ক্লান্তি অনুভব করা।
  • দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা
    সিঁড়ি চড়া, বসা-উঠা বা কেনাকাটা করার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
  • দেহের ভারসাম্যহীনতা ও পতনের ঝুঁকি
    পেশি শক্তি কমলে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। এতে বয়স্কদের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পায়।
  • পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা বা অস্বস্তি
    পেশি হ্রাসের কারণে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

সারকোপেনিয়ার কারণ

  • বয়সজনিত পরিবর্তন: ৩০-এর পর থেকে প্রতিটি দশকে পেশির ভর প্রায় ৩–৫% হ্রাস পায়।
  • পুষ্টিহীনতা: প্রোটিন, ভিটামিন D ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কমলে পেশি ক্ষয় দ্রুত হয়।
  • নিষ্ক্রিয় জীবনধারা: ব্যায়ামের অভাব পেশি শক্তি হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখে।
  • হরমোন পরিবর্তন: টেস্টোস্টেরন, এইস্ট্রোজেন ও গ্রোথ হরমোনের হ্রাস।

প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা

১. ব্যায়াম

  • প্রতিরোধমূলক শক্তি প্রশিক্ষণ: হালকা ওজন ব্যবহার করে পেশি শক্তি বাড়ানো।
  • কার্ডিও ব্যায়াম: হাঁটাচলা, সাঁতার, সাইক্লিং করে সামগ্রিক শরীরের ফিটনেস বজায় রাখা।
  • সমন্বয় ও ভারসাম্য অনুশীলন: যোগব্যায়াম বা পিলেটসের মাধ্যমে ভারসাম্য উন্নত করা।

২. পুষ্টি

  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য: ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ও বাদাম।
  • ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম: হাড় ও পেশি স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার: ফল, শাকসবজি এবং বাদাম।

৩. জীবনধারা পরিবর্তন

  • ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়ানো।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক বিশ্রাম।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে পেশি ভর ও শক্তি পর্যবেক্ষণ।

সচেতনতা

সারকোপেনিয়া কোনো একদিনের সমস্যা নয়। এটি ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ রোগীকে সক্রিয় ও স্বনির্ভর রাখে। এছাড়াও ফিজিওথেরাপি বা হেলথ কোচের সহায়তায় পেশি শক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।

Leave A Comment