x
d o c t o r s 2 4
17 Jul

বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়তে থাকে, যা অনেকের জন্য উদ্বেগের কারণ। কিন্তু আপনি যদি লেবু, কমলা, মাল্টা বা এই জাতীয় ফল খেতে পছন্দ করেন, তাহলে সুখবর! এই ফলগুলো নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে এবং স্মৃতিভ্রংশের (ডিমেনশিয়া) ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

জাপানের তোহুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ১৩,০০০ বয়স্ক মানুষের উপর ৭ বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখেছেন, যারা প্রতিদিন লেবুজাতীয় ফল খান, তাদের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি ২৩% পর্যন্ত কমে। নিউট্রেশন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, লেবুজাতীয় ফলের নিয়মিত গ্রহণ স্মৃতিশক্তির উন্নতি এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও এই ফলগুলো স্মৃতিভ্রংশ কমানোর হার নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, তবে এর সঙ্গে ঝুঁকি হ্রাসের স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

লেবুজাতীয় ফলের উপকারিতা

লেবুজাতীয় ফল, যেমন লেবু, কমলা, মাল্টা, আঙ্গুর ফল (গ্রেপফ্রুট), এবং লাইম, ভিটামিন সি, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমায়, যা স্মৃতিভ্রংশ প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া, এই ফলগুলো রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, লেবুজাতীয় ফলের ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের নিউরনের মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, যা আলঝাইমারের মতো রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক। এই ফলগুলোতে থাকা ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমায়, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

স্মৃতিশক্তি রক্ষায় করণীয়

স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে লেবুজাতীয় ফল ছাড়াও কিছু অভ্যাস গ্রহণ করা জরুরি:

  • নিয়মিত লেবুজাতীয় ফল খান: প্রতিদিন একটি কমলা, লেবুর রস বা আঙ্গুর ফল খান। এগুলো সালাদে, পানীয়তে বা সরাসরি খাওয়া যায়।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ: ফল, সবজি, গোটা শস্য, বাদাম এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • শারীরিক কার্যকলাপ: নিয়মিত ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, যোগা বা সাঁতার, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।
  • মানসিক ব্যায়াম: ধাঁধা সমাধান, পড়া, বা নতুন দক্ষতা শেখা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।
  • স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান, যোগা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম স্ট্রেস কমায়, যা স্মৃতিভ্রংশ প্রতিরোধে সহায়ক।

লেবুজাতীয় ফলের নিয়মিত গ্রহণ একটি সহজ এবং সুস্বাদু উপায়ে স্মৃতিশক্তি রক্ষা এবং স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতে পারে। এই ফলগুলো শুধু মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যই নয়, সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে। তাই আজ থেকেই আপনার খাদ্যাভ্যাসে লেবু, কমলা বা মাল্টা যোগ করুন এবং সুস্থ মস্তিষ্কের পথে এগিয়ে যান। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি আরও কমানো সম্ভব।

Leave A Comment