x
d o c t o r s 2 4
25 Dec

রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ উঠে হাঁটা, দরজা খোলা বা অচেনা কাজ করা—এই ঘটনাকে আমরা স্লিপওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে হাঁটা বলে জানি। অনেকেই মনে করেন এটি হঠাৎ করেই ঘটে, কিন্তু ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে বাস্তবতা ভিন্ন। স্লিপওয়াকিংয়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই শরীর ও মস্তিষ্ক কিছু সতর্ক লক্ষণ দেখাতে শুরু করে। সঠিক সময়ে এই লক্ষণগুলো চিনে ফেলতে পারলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

স্লিপওয়াকিং আসলে কেন হয়?

স্লিপওয়াকিং মূলত ঘটে গভীর নন-র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (NREM) ঘুমের সময়। তখন মস্তিষ্ক আংশিক জেগে ওঠে, কিন্তু চেতনা পুরোপুরি সক্রিয় হয় না। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়—বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে।

লক্ষণ ১: ঘুম ভাঙার পর অস্বাভাবিক ক্লান্তি

স্লিপওয়াকিংয়ের আগে অনেকেই লক্ষ্য করেন, পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে। কারণ, এই সময়ে গভীর ঘুম বারবার ভেঙে যায়, যদিও তা মনে থাকে না। নতুন তথ্য হলো—স্মার্ট স্লিপ ট্র্যাকারে এই সময় “ডিপ স্লিপ” কমে যাওয়ার প্রবণতা ধরা পড়ে, যা আগাম সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে।

লক্ষণ ২: রাতে হঠাৎ জেগে ওঠা ও বিভ্রান্তি

ঘুমের মাঝখানে হঠাৎ উঠে বসা, চারপাশ চিনতে অসুবিধা হওয়া বা কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিভ্রান্ত থাকা স্লিপওয়াকিংয়ের আগাম ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মস্তিষ্কের ঘুম-জাগরণ নিয়ন্ত্রণকারী অংশের অসামঞ্জস্যের ফল।

লক্ষণ ৩: দিনের বেলা মনোযোগের ঘাটতি

এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেখা দিতে পারে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা। পড়াশোনা বা কাজে ভুল বেড়ে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল মনে হয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের স্লিপওয়াকিংয়ের প্রবণতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সময়ে প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে যায়।

লক্ষণ ৪: মানসিক অস্থিরতা ও মুড সুইং

অল্পতেই রেগে যাওয়া, অকারণে মন খারাপ বা উদ্বিগ্ন লাগা—এই মুড পরিবর্তনও একটি বড় সংকেত। ঘুমের গুণগত মান খারাপ হলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। নতুন দিকটি হলো, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

লক্ষণ ৫: ঘুমের মধ্যে কথা বলা বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া

স্লিপওয়াকিংয়ের আগে অনেকের স্লিপ টকিং, হাত-পা নাড়াচাড়া বা বিছানায় বসে পড়ার মতো আচরণ দেখা যায়। এগুলোকে অনেকেই তুচ্ছ ভাবেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এটিকে ভবিষ্যৎ স্লিপওয়াকিংয়ের “প্রি-ফেজ” হিসেবে দেখেন।

ঝুঁকি কমাতে কী করা যায়?

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তুলুন
  • ঘুমের আগে মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার কমান
  • মানসিক চাপ কমাতে শ্বাস-প্রশ্বাস বা রিল্যাক্সেশন ব্যায়াম করুন
  • ক্যাফেইন ও ভারী খাবার রাতে এড়িয়ে চলুন

স্লিপওয়াকিং শুধু অদ্ভুত অভ্যাস নয়, কখনও কখনও এটি নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই ঘুমের এই পাঁচটি আগাম সংকেত চিনে রাখা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে সুস্থ ও নিরাপদ ঘুমের চাবিকাঠি।

Leave A Comment