x
d o c t o r s 2 4
11 Jan

থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের বিপাক, শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন এবং মানসিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং প্রকাশ পাওয়ার কয়েক মাস আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম বার্তা দিতে শুরু করে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, হাইপোথাইরয়েডিজম স্পষ্টভাবে ধরা পড়ার প্রায় ৩–৪ মাস আগে থেকেই কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেগুলো অবহেলা করলে পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

হাইপোথাইরয়েডিজমের পেছনের কারণ

এই রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হাশিমোটো’স থাইরয়েডাইটিস, আয়োডিনের ঘাটতি, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অতিরিক্ত স্ট্রেস। থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাক ধীর হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে।

নিচে হাইপোথাইরয়েডিজমের ৪ মাস আগে প্রায়ই দেখা দেওয়া ৬টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. অকারণ ক্লান্তি ও শক্তি হ্রাস
রোগের শুরুতেই অনেকেই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীর ভারী লাগে এবং দৈনন্দিন কাজ করতে আগ্রহ কমে যায়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে কোষে শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ দেখা দেয়।

২. ওজন বাড়ার প্রবণতা
খাবারের পরিমাণ খুব বেশি না বাড়লেও ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ। বিপাক ধীর হয়ে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে। এই সময় অনেকেই এটিকে কেবল অলস জীবনযাত্রার ফল মনে করে গুরুত্ব দেন না।

৩. ঠান্ডা বেশি লাগা
স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও ঠান্ডা অনুভব করা বা অন্যদের তুলনায় বেশি শীত লাগা হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত। থাইরয়েড হরমোন শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এর ঘাটতিতে তাপ উৎপাদন কমে যায়।

৪. ত্বক ও চুলের পরিবর্তন
রোগ প্রকাশের কয়েক মাস আগেই ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ভ্রুর বাইরের অংশ পাতলা হয়ে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। নতুন তথ্য অনুযায়ী, থাইরয়েড হরমোন ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

৫. মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক ধীরতা
হাইপোথাইরয়েডিজমের শুরুতে অনেকেই ‘ব্রেইন ফগ’ অনুভব করেন। সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে, মনোযোগ কমে যায় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল মনে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কম থাইরয়েড হরমোন মস্তিষ্কের নিউরোনাল কার্যক্রমকে ধীর করে দেয়।

৬. কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা
বিপাক ধীর হওয়ার প্রভাব হজম প্রক্রিয়াতেও পড়ে। খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা দেখা দেয়। অনেক সময় এই লক্ষণকে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা হয়।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

উপরের একাধিক লক্ষণ যদি ৩–৪ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট (TSH, T3, T4) করানো জরুরি। দ্রুত শনাক্ত হলে ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave A Comment