x
d o c t o r s 2 4
21 Aug

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। হার্ট অ্যাটাক যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে গবেষণা বলছে সকালের সময় এর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কেন সকালে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়ে এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়, তা জেনে নিন এই নিবন্ধে।

কেন সকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি?

গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি হওয়ার পেছনে শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • হরমোনের ওঠানামা: সকালে সাইটোকিনিন হরমোনের নিঃসরণ বেশি হয়, যা হৃদযন্ত্রের ছন্দে (অ্যারিথমিয়া) সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই সময় হৃদযন্ত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।
  • রক্ত জমাট বাঁধা: সকালে রক্তের পিএআই-১ (প্লাসমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর ইনহিবিটর-১) কোষ অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অ্যাড্রিনালিন নিঃসরণ: সকালে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা করোনারি ধমনীতে চাপ সৃষ্টি করে এবং হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায়।
  • দৈনিক ক্রিয়াকলাপ: দিনের শুরুতে শরীর সক্রিয় হওয়ার সময় শক্তি ব্যয় বেশি হয়, যা হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে।

বিশেষ করে ভোর ৪টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। যাদের ধূমপান, মদ্যপান, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের এই সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
  • বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, যা বাহু, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা।
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা।
  • হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের কাছে যান বা জরুরি সেবা নিন।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার (যেমন ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য), স্বাস্থ্যকর চর্বি (যেমন বাদাম, অলিভ অয়েল) এবং কম লবণযুক্ত খাবার খান। তৈলাক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ান।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, সাঁতার বা যোগ, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
  • ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। ধূমপান বন্ধ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা শখের কাজে সময় দিয়ে মানসিক চাপ কমান।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত চেকআপ করান।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন হৃদযন্ত্রের উপর চাপ বাড়ায়। সুষম খাদ্য ও ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
টিপস
  • সকালের রুটিন: সকালে হঠাৎ তীব্র শারীরিক কার্যকলাপ এড়ান। ধীরে ধীরে শরীর সক্রিয় করুন, যেমন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটা।
  • হাইড্রেশন: পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কারণ পানিশূন্যতা রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের উপর প্রভাব ফেলে।
  • মদ্যপান সীমিত করুন: অতিরিক্ত মদ্যপান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • জরুরি প্রস্তুতি: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের সচেতন করুন এবং জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন।

Leave A Comment