x
d o c t o r s 2 4
23 Nov

গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় হিট স্ট্রোক (Heat Stroke)। এটি কেবল গরম লাগা বা ঘাম হওয়া নয়—বরং একটি প্রাণঘাতী অবস্থা, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবনহানিও ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক সাধারণত দীর্ঘ সময় গরমে কাজ করা, সূর্যের তাপে হাঁটা বা পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার ফলে ঘটে। তবে অনেকেই জানেন না, হিট স্ট্রোকের একদিন আগেই শরীর কিছু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয়, যা আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। এই লক্ষণগুলো চিনে আগেই সাবধান হলে বিপদ অনেকটাই এড়ানো যায়।

নিচে হিট স্ট্রোকের ১ দিন আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও মাথা ভার লাগা

হিট স্ট্রোকের আগের দিন শরীর অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার (Dehydration) কারণে শক্তি হারাতে শুরু করে। এতে ব্যক্তি অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল অনুভব করেন, মাথা ভার লাগে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সামান্য হাঁটলেও মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীর যখন ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করতে ব্যর্থ হয়, তখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যার ফলেই এই ক্লান্তি ও মাথা ভার লাগার উপসর্গ দেখা দেয়।

২. ত্বক গরম কিন্তু ঘামহীন হওয়া

হিট স্ট্রোকের অন্যতম পূর্বলক্ষণ হলো শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকা, কিন্তু ঘাম না হওয়া। সাধারণত গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমায়। কিন্তু যখন ঘামগ্রন্থি কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন শরীরের ভেতরের তাপ জমে যায়।

এই অবস্থায় ত্বক গরম, লালচে ও শুষ্ক হয়ে ওঠে। অনেক সময় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, জিহ্বা আঠালো অনুভূত হয়। এটিই ইঙ্গিত দেয় যে শরীর তার স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া হারাচ্ছে—অর্থাৎ হিট স্ট্রোকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

৩. মানসিক বিভ্রান্তি ও বমি ভাব

হিট স্ট্রোকের আগের দিন অনেকেই আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন—যেমন কথা জড়িয়ে যাওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, অস্থিরতা বা অজানা উদ্বেগ। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি ও ক্ষুধামন্দা।

এই লক্ষণগুলো দেখা দেয় কারণ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলস্বরূপ, চিন্তা, আবেগ ও সমন্বয় ক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটে। এটি হিট স্ট্রোকের অন্যতম আগাম সতর্ক সংকেত।

কেন ঘটে হিট স্ট্রোক?

  • প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা
  • পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইট না খাওয়া
  • গরমে ভারী পোশাক বা কালো রঙের পোশাক পরা
  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, বিশেষ করে সূর্যের তাপে
  • বয়স্ক, শিশু ও হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমে যাওয়া

প্রতিরোধের উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য, যদি আগেভাগেই সতর্ক থাকা যায়।
কিছু কার্যকর পদক্ষেপ হলো—

  • দিনে অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করুন।
  • রোদে বের হলে ছাতা, টুপি বা হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করুন।
  • কফি, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন, কারণ এগুলো শরীরকে পানিশূন্য করে।
  • কাজের মাঝখানে নিয়মিত বিরতি নিন ও ছায়ায় বিশ্রাম করুন।
  • শরীরে অস্বাভাবিক গরম বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা স্থানে যান।

হিট স্ট্রোক একটি নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী শত্রু। তাই একদিন আগেই যদি শরীরে এই তিনটি লক্ষণ দেখা যায়—অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঘামহীন গরম ত্বক এবং মানসিক বিভ্রান্তি—তবে অবহেলা নয়, এখনই পদক্ষেপ নিন।

Leave A Comment