x
d o c t o r s 2 4
03 Feb

হেমোক্রোমাটোসিস একটি জেনেটিক ও বিপাকজনিত রোগ, যেখানে শরীরে অতিরিক্ত লৌহ (Iron) জমতে থাকে। স্বাভাবিকভাবে শরীর যতটুকু লৌহ প্রয়োজন ততটুকুই শোষণ করে, কিন্তু এই রোগে সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যায়। ফলে লিভার, হৃদযন্ত্র, অগ্ন্যাশয়, জয়েন্ট ও ত্বকে ধীরে ধীরে লৌহ জমে গুরুতর জটিলতা তৈরি করে। আশঙ্কার বিষয় হলো—রোগটি পুরোপুরি প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ১ বছর আগেই শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে, যেগুলো অনেকেই অবহেলা করেন।

হেমোক্রোমাটোসিস কেন বিপজ্জনক?

এই রোগ দীর্ঘদিন অচিহ্নিত থাকলে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এমনকি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে সুখবর হলো—আগেভাগে শনাক্ত হলে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১ বছর আগে শরীরে দেখা দেয় যে ৬টি লক্ষণ

নিচে এমন ৬টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো হেমোক্রোমাটোসিসের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে:

১. অস্বাভাবিক দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি সবসময় দুর্বলতা ও শক্তিহীনতা অনুভব হয়, তবে তা শুধু কাজের চাপ নয়। অতিরিক্ত লৌহ শরীরের কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

২. জয়েন্টে ব্যথা ও শক্তভাব
বিশেষ করে হাতের আঙুল, হাঁটু ও কবজিতে ব্যথা—যা সকালে বেশি অনুভূত হয়। অনেক সময় এটিকে আর্থ্রাইটিস ভেবে অবহেলা করা হয়, কিন্তু এটি হেমোক্রোমাটোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৩. ত্বকের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া
ত্বক ধীরে ধীরে ব্রোঞ্জ বা ধূসর আভা ধারণ করতে পারে, এমনকি রোদে না গেলেও। একে অনেক সময় “ব্রোঞ্জ ডায়াবেটিস” বলা হয়, যা রোগটির একটি পরিচিত ইঙ্গিত।

৪. পেটের ডান পাশে অস্বস্তি বা ব্যথা
লিভারে অতিরিক্ত লৌহ জমার ফলে পেটের ডান দিকের উপরের অংশে ভারীভাব বা হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটি লিভার সমস্যার আগাম সংকেত।

৫. লিবিডো কমে যাওয়া ও হরমোনজনিত সমস্যা
পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, ইরেকটাইল সমস্যা এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়ম দেখা দিতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লৌহ পিটুইটারি গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত করে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

৬. রক্তে শর্করার অস্বাভাবিক পরিবর্তন
অগ্ন্যাশয়ে লৌহ জমলে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে প্রিডায়াবেটিস বা হঠাৎ রক্তে শর্করার ওঠানামা শুরু হতে পারে—যা অনেক সময় ডায়াবেটিসের আগাম ধাপ।

নতুন তথ্য

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের পরিবারে হেমোক্রোমাটোসিসের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ৩০–৪০ বছর বয়সেই এই লক্ষণগুলো শুরু হতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—পুরুষদের মধ্যে লক্ষণ তুলনামূলক আগে প্রকাশ পেলেও, নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

উপরের একাধিক লক্ষণ যদি একসঙ্গে দেখা যায় এবং রক্ত পরীক্ষায় ফেরিটিন বা ট্রান্সফেরিন স্যাচুরেশন বেশি থাকে, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হেমোক্রোমাটোসিস নীরব ঘাতকের মতো ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে শরীরের আগাম সংকেতগুলো চিনে ফেলতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

Leave A Comment