x
d o c t o r s 2 4
23 Aug

স্লিপওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে হাঁটা এমন একটি সমস্যা, যা আমরা প্রায়ই সিনেমায় দেখে থাকি। কিন্তু বাস্তব জীবনেও এটি অনেক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। ঘুমের সময় কেউ যখন হাঁটাচলা করে বা অদ্ভুত নড়াচড়া করে, তখন এটি স্লিপওয়াকিং হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই সমস্যা সাধারণত গভীর ঘুমের সময়, বিশেষ করে রাতের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বেশি দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে এটি বেশি হলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই সমস্যা থাকতে পারে। এই নিবন্ধে আমরা জানবো স্লিপওয়াকিংয়ের কারণ, প্রভাব এবং এর সমাধান সম্পর্কে।

স্লিপওয়াকিং কী?

স্লিপওয়াকিং একটি মানসিক ও স্নায়বিক ব্যাধি, যেখানে একজন ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে উঠে হাঁটাচলা বা অন্যান্য কার্যকলাপ করে, কিন্তু তার এই কাজের কোনো সচেতন স্মৃতি থাকে না। এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং বয়ঃসন্ধিকালে অনেকের ক্ষেত্রে এটি কমে যায়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কখনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

স্লিপওয়াকিংয়ের কারণ

স্লিপওয়াকিংয়ের পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • অপর্যাপ্ত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা স্লিপওয়াকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের কারণে ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত ঘটে, যা এই সমস্যাকে উৎসাহিত করতে পারে।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ, বিশেষ করে ঘুমের ওষুধ বা মানসিক রোগের ওষুধ, স্লিপওয়াকিংয়ের কারণ হতে পারে।
  • জিনগত প্রভাব: পরিবারে যদি কারো স্লিপওয়াকিংয়ের ইতিহাস থাকে, তবে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • স্বাস্থ্য সমস্যা: জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বা স্নায়বিক রোগ যেমন স্লিপ অ্যাপনিয়া স্লিপওয়াকিংকে ট্রিগার করতে পারে।
  • অতিরিক্ত ভ্রমণ বা জেট ল্যাগ: ঘন ঘন ভ্রমণ বা ঘুমের সময়সূচিতে পরিবর্তন এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
স্লিপওয়াকিংয়ের প্রভাব

স্লিপওয়াকিং সাধারণত নিরীহ হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যেমন:

  • আঘাতের ঝুঁকি: ঘুমের মধ্যে হাঁটার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়া বা ধাক্কা লাগার ঝুঁকি থাকে।
  • দিনের ক্লান্তি: অসম্পূর্ণ ঘুমের কারণে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব বা খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে।
  • মানসিক চাপ: স্লিপওয়াকিংয়ের ঘটনা ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্লিপওয়াকিংয়ের সমাধান

স্লিপওয়াকিংয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও, কিছু সহজ পদক্ষেপ এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে:

  • নিয়মিত ঘুমের রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জাগ্রত হওয়া ঘুমের চক্রকে সুস্থ রাখে।
  • শান্ত ঘুমের পরিবেশ: ঘুমানোর জায়গা অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক রাখুন। ঘুমের আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমান।
  • ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা: সন্ধ্যার পর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।
  • শিথিলকরণ কৌশল: ঘুমানোর আগে গরম স্নান, ধ্যান, বই পড়া বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মন ও শরীরকে শান্ত করে।
  • শিশুদের জন্য বিশেষ কৌশল: যদি শিশুর স্লিপওয়াকিংয়ের সমস্যা থাকে, তবে তাকে ঘুমের প্রায় ১৫ মিনিট আগে আলতোভাবে জাগিয়ে ঘুমের চক্র পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন।
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ঘরের সিঁড়ি, জানালা বা ধারালো জিনিস সুরক্ষিত রাখুন যাতে ঘুমের মধ্যে হাঁটার সময় আঘাতের ঝুঁকি কমে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি স্লিপওয়াকিং ঘন ঘন হয় বা আঘাতের কারণ হয়, তবে একজন নিউরোলজিস্ট বা ঘুম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা

স্লিপওয়াকিংয়ের সময় কাউকে জোর করে জাগানোর চেষ্টা করবেন না, কারণ এটি তাদের ভয় বা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। বরং, তাদের আলতোভাবে বিছানায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

স্লিপওয়াকিং একটি অস্বাভাবিক কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা। সঠিক জীবনযাত্রা এবং সতর্কতার মাধ্যমে এটি কমানো সম্ভব।

Leave A Comment