একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েরা প্রসবের পর ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি অন্তত তিন বছরের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই গবেষণাটি মায়েদের স্বাস্থ্য এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বের উপর নতুন আলোকপাত করেছে।
গবেষণার ফলাফল
ইন্টারন্যাশনাল ব্রেস্টফিডিং জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের রক্তচাপ কম থাকে এবং শরীরের ওজন বা বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) উন্নত হয়। এটি কার্ডিও-মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং গর্ভাবস্থার জটিলতার প্রভাব কমে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির প্রেগন্যান্সি হেলথ অ্যান্ড বিয়ন্ড রিসার্চ গ্রুপের নেতা প্রফেসর ক্লেয়ার রবার্টস জানান, “বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু শিশুর জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।” গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো জটিলতায় ভুগেছেন এমন মায়েদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদী বুকের দুধ খাওয়ানো এই মায়েদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
বুকের দুধ খাওয়ানোর অতিরিক্ত উপকারিতা
- মায়ের জন্য: বুকের দুধ খাওয়ানো ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে, যা প্রসবোত্তর ওজন কমাতে সহায়ক। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
- শিশুর জন্য: বুকের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে।
- মানসিক স্বাস্থ্য: বুকের দুধ খাওয়ানো মা ও শিশুর মধ্যে বন্ধন শক্তিশালী করে এবং প্রসবোত্তর বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমায়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফল আরও বড় নমুনা আকারে এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে, এটি স্পষ্ট যে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
