x
d o c t o r s 2 4
23 Aug

খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইলে প্রিয় সিরিয়াল বা সিনেমা দেখার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এটি কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বড়দের দেখে এখন শিশুরাও এই অভ্যাস গড়ে তুলছে। ফলে অভিভাবকদের প্রায়ই বাচ্চাদের পীড়াপীড়িতে তাদের কথা মেনে নিতে হয়। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড হেলথের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল ব্যবহারের ফলে শরীরে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আসুন জেনে নিই এই অভ্যাসের কারণে কী কী সমস্যা হতে পারে।

মনোযোগের অভাব ও অতিরিক্ত খাওয়া

খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইলে মনোযোগ থাকলে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যায়। ফলে অনেক সময় ক্ষুধার চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। এই অতিরিক্ত খাওয়া স্থূলতার প্রধান কারণ। স্থূলতা থেকে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

হজমের সমস্যা

টিভি বা মোবাইল দেখার সময় খাবার ঠিকমতো চিবানো হয় না, যার ফলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা, অ্যাসিডিটি এবং বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল দেখার অভ্যাস শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে খাবার সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত হয় না এবং শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে। এটি ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাসের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।

মানসিক চাপ ও পারিবারিক বন্ধনের ক্ষতি

খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইলে মগ্ন থাকলে পারিবারিক আলাপচারিতা বা একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। এটি মানসিক চাপ বাড়াতে পারে এবং পারিবারিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস তাদের সামাজিক দক্ষতা এবং মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কীভাবে এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পাবেন?
  • নির্দিষ্ট খাওয়ার জায়গা: খাবার গ্রহণের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা বেছে নিন, যেখানে টিভি বা মোবাইলের প্রভাব কম থাকে।
  • পরিবারের সঙ্গে সময়: খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করুন। এটি সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি খাওয়ার প্রতি মনোযোগ বাড়ায়।
  • সময় নিয়ন্ত্রণ: মোবাইল বা টিভির ব্যবহার সীমিত করতে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন।
  • সচেতন খাওয়া: খাবারের স্বাদ, গন্ধ এবং টেক্সচারের দিকে মনোযোগ দিন। এটি অতিরিক্ত খাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে।

 

Leave A Comment