x
d o c t o r s 2 4
17 Jul

মাইগ্রেন আজকাল একটি অতি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা, যা শুধু তীব্র মাথাব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই মাথাব্যথা বলতে মাইগ্রেন বা সাইনোসাইটিসের কথা ভাবলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন শুধু মাথার যন্ত্রণাই নয়, এটি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এই নতুন তথ্য মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সতর্কতার বার্তা নিয়ে এসেছে।

মাইগ্রেন ও হৃদরোগের সম্পর্ক

ডেনমার্কের আরাফাস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের অধ্যাপক এবং গবেষক ড. ক্যাসপার অ্যাডেলবার্গ বলেন, “মাইগ্রেন নারী এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ রোগ, যা ঘরে ঘরে হৃদরোগের ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে পারে।” তিনি আরও জানান, মাইগ্রেনের সঙ্গে পূর্বে স্ট্রোকের সম্পর্ক প্রমাণিত হলেও, নতুন গবেষণায় হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

একটি বড় মাপের গবেষণায় ৩৫ বছর বা তার কাছাকাছি বয়সের প্রায় ৫২,০০০ মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ৫ লাখের বেশি মাইগ্রেন-মুক্ত ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।

গবেষণার ফলাফল

গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তিদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৪৯% বেশি। এছাড়া, প্রতি ১০০০ মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে গড়ে ২৫ জন প্রতি মাসে অন্তত দুইবার হৃদরোগের সমস্যায় ভোগেন। এটি ছাড়াও, মাইগ্রেনের সঙ্গে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ঝুঁকিও বাড়তে দেখা গেছে।

মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষ করে যারা অরা (aura) সহ মাইগ্রেনে ভোগেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেশি। অরা হলো মাইগ্রেনের আগে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, আলোর ঝলকানি বা শরীরে ঝিনঝিন অনুভূতির মতো লক্ষণ।

মাইগ্রেনের ঝুঁকি কমাতে করণীয়

মাইগ্রেন এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন:

  • নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ: মাইগ্রেনের তীব্রতা বা ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হলে নিয়মিত নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে ওষুধ বা থেরাপি সাহায্য করতে পারে।
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং নিয়মিত ব্যায়াম মাইগ্রেনের প্রকোপ কমাতে পারে। ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
  • স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা: স্ট্রেস মাইগ্রেনের অন্যতম ট্রিগার। যোগা, ধ্যান, বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি পরীক্ষা: নিয়মিত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, এবং হৃদয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। বিশেষ করে মাইগ্রেন আক্রান্ত নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ।
  • ট্রিগার এড়িয়ে চলা: ক্যাফেইন, উচ্চ শব্দ, উজ্জ্বল আলো বা নির্দিষ্ট খাবার (যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার) মাইগ্রেনকে উসকে দিতে পারে। নিজের ট্রিগার চিহ্নিত করে তা এড়িয়ে চলুন।

মাইগ্রেনকে অনেকে সাধারণ মাথাব্যথা হিসেবে উড়িয়ে দেন, কিন্তু এটি শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মাইগ্রেনের লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave A Comment