x
d o c t o r s 2 4
30 Jul

কোভিড মহামারীর পর থেকে শিশুদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেলাধুলার পরিবর্তে তারা এখন বেশিরভাগ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভি স্ক্রিনের সামনে কাটায়। এই পরিবর্তন শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে তাদের চোখের উপর। এর ফলে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টির মতো সমস্যা বাড়ছে, যা শিশুদের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। চলুন জেনে নিই মায়োপিয়া কী, এর লক্ষণ এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়।

মায়োপিয়া কী?

মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি এমন একটি অবস্থা, যেখানে দূরের বস্তু ঝাপসা দেখায়, কিন্তু কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায়। এটি ঘটে যখন চোখের লেন্স বা কর্নিয়া সঠিকভাবে আলো প্রতিসরণ করতে পারে না, ফলে আলো রেটিনার সামনে ফোকাস করে। এই সমস্যা সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং কিশোর বয়সের শেষের দিকে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি আরও জটিল হতে পারে।

মায়োপিয়ার লক্ষণ:

  • মাথাব্যথা: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকানো বা দূরের বস্তু দেখার চেষ্টায় মাথাব্যথা হতে পারে।

  • ঝাপসা দৃষ্টি: দূরের জিনিস, যেমন স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ড বা রাস্তার সাইন, ঝাপসা দেখায়।

  • চোখে চাপ বা ক্লান্তি: চোখে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি।

  • টিভি বা স্ক্রিনের কাছে বসা: শিশুরা টিভি বা কম্পিউটারের খুব কাছে বসে দেখতে চায়।

  • ঘন ঘন চোখ ঘষা: চোখে অস্বস্তির কারণে শিশুরা বারবার চোখ ঘষতে পারে।

  • চোখ মিটমিট করা: দূরের বস্তু দেখার জন্য চোখ মিটমিট করার প্রবণতা।

কেন শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বাড়ছে?

কোভিডের পর থেকে শিশুদের বাইরে খেলাধুলার সময় কমে গেছে। তারা বেশিরভাগ সময় ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কাটায়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকানো এবং কম প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে থাকা মায়োপিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া, অনুপযুক্ত আলোতে পড়াশোনা বা স্ক্রিন ব্যবহার চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

মায়োপিয়া প্রতিরোধের উপায়:

  • স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন:
    শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন টাইম ১-২ ঘণ্টার মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন: প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন দেখার পর ২০ সেকেন্ড দূরে তাকান এবং চোখকে বিশ্রাম দিন।

  • বাইরে খেলাধুলা উৎসাহিত করুন:
    প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলা বা সময় কাটানো মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমায়। প্রাকৃতিক আলো চোখের বিকাশে সহায়ক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

  • উপযুক্ত আলোতে কাজ করুন:
    কম আলো বা অন্ধকারে পড়াশোনা বা স্ক্রিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করলে চোখের উপর চাপ কম পড়ে।

  • নিয়মিত চোখের পরীক্ষা:
    প্রতি ৬-১২ মাস অন্তর শিশুদের চোখের চেকআপ করান। প্রাথমিক পর্যায়ে মায়োপিয়া শনাক্ত হলে চশমা বা অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
    ভিটামিন এ, সি, ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার, যেমন গাজর, পালং শাক, মাছ ইত্যাদি, চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য তাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে, বাইরে খেলাধুলার সময় বাড়িয়ে এবং নিয়মিত চোখের যত্ন নিয়ে মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আপনার সন্তানের সুস্থ দৃষ্টি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আজই সচেতন হোন!

Leave A Comment