x
d o c t o r s 2 4
20 Jul

আমাদের রক্তের গ্রুপ শুধু চিকিৎসা পরীক্ষার জন্যই নয়, এটি আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় রক্তের গ্রুপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে একটি আশ্চর্যজনক সম্পর্ক উন্মোচিত হয়েছে। এই গবেষণা আমাদের রক্তের ধরন কীভাবে স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত তা তুলে ধরেছে। আসুন এই গবেষণার বিস্তারিত জেনে নিই।

গবেষণার মূল তথ্য

গবেষণায় ১৬,৭০০ জনেরও বেশি স্ট্রোক আক্রান্ত এবং প্রায় ৬,০০,০০০ সুস্থ ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি রক্তের গ্রুপ এবং ইস্কেমিক স্ট্রোকের মধ্যে জেনেটিক সম্পর্ক খুঁজে বের করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল। ইস্কেমিক স্ট্রোক হল এমন একটি অবস্থা, যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়, ফলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন, যা বিশ্বব্যাপী স্ট্রোকের প্রায় ৮৫% ক্ষেত্রে ঘটে।

ব্লাড গ্রুপ ‘A’ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘A’, তাদের ৬০ বছর বয়সের আগে ইস্কেমিক স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অন্যান্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় বেশি। এই সম্পর্ক জেনেটিক কারণের সঙ্গে যুক্ত, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া এবং রক্তনালীর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, A গ্রুপের রক্তে কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ব্লাড গ্রুপ ‘O’ এর সুবিধা

অন্যদিকে, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘O’, তাদের প্রাথমিক ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। গবেষণায় দেখা গেছে, O গ্রুপের রক্তে জমাট বাঁধার প্রবণতা কম থাকে, যা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে বাধা কমায়। এটি বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। তবে এই সুরক্ষা সবার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে।

অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক

গবেষণায় আরও প্রকাশ পেয়েছে যে রক্তের গ্রুপ শুধু স্ট্রোক নয়, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, A গ্রুপের রক্তের লোকেদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগ এবং কিছু ক্ষেত্রে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। অন্যদিকে, O গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিদের এই রোগগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সম্পর্কগুলো পুরোপুরি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

যদিও রক্তের গ্রুপ স্ট্রোকের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখে, তবে অন্যান্য ঝুঁকির কারণ যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, এবং স্থূলতা এর ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হালকা শারীরিক কার্যকলাপ করুন।
  • ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্থূলতা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

 

Leave A Comment