x
d o c t o r s 2 4
07 Jul

ফুসফুসের ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণত এটিকে ধূমপায়ীদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে, সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যা প্রকাশিত হয়েছে ‘ল্যানসেট’ মেডিকেল জার্নালে। এই গবেষণা জানাচ্ছে, ফুসফুসের ক্যানসার কেবল ধূমপায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অধূমপায়ীরাও এই রোগের শিকার হচ্ছেন।

ধূমপান ছাড়াও ক্যানসারের ঝুঁকি

ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রতিষ্ঠিত। তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, যেমন নিকোটিন ও কার্সিনোজেন, ফুসফুসের কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসার সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ফুসফুসের ক্যানসারের ৮৫% ঘটনা ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার এবং WHO-এর বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় ২০২২ সালের বিশ্বব্যাপী ক্যানসারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারের একটি বিশেষ ধরন, ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’, অধূমপায়ীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আশ্চর্যজনকভাবে, ২০২২ সালে রিপোর্ট করা ফুসফুসের ক্যানসারের ৫৩-৭০% ঘটনা ছিল অধূমপায়ীদের মধ্যে।

বায়ু দূষণ: নতুন হুমকি

গবেষণায় বায়ু দূষণকে ফুসফুসের ক্যানসারের একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে PM2.5-এর মতো ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে কোষের ক্ষতি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২২ সালে শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে ৮০,৩৭৮টি ফুসফুসের ক্যানসারের ঘটনা বায়ু দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এছাড়া, অধূমপায়ীদের মধ্যে অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেকেন্ডহ্যান্ড ধোঁয়া, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, এবং জেনেটিক প্রবণতা।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

গবেষণা অনুসারে, অধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বিশেষ করে নারী ও এশীয় দেশগুলোতে বেশি। এই রোগে মৃত্যুর হারে অধূমপায়ীরা পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বিজ্ঞানী ফ্রেডি ব্রে জানিয়েছেন, ধূমপানের অভ্যাসে পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ এই রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। শিল্পাঞ্চল, ঘনবসতিপূর্ণ শহর এবং দূষিত বাতাসে বসবাসকারী মানুষেরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা

এই গবেষণা ফুসফুসের ক্যানসারের প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বায়ু দূষণ কমাতে ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মাস্ক ব্যবহার, বায়ু পরিশোধক যন্ত্রের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

Leave A Comment