আধুনিক জীবনযাত্রায় শিশুদের মধ্যে টিভি, ট্যাবলেট বা স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার একটি সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) এর সঙ্গে এই অভ্যাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য, যা অভিভাবকদের জন্য সতর্কবার্তা।
অটিজম ও স্ক্রিন টাইমের সম্পর্ক
গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুদের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের জেনেটিক ঝুঁকি রয়েছে, তারা শৈশব থেকেই টিভি, ট্যাবলেট বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। এই শিশুরা দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়। এই অভ্যাস তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং অটিজমের লক্ষণগুলোকে আরও প্রকট করতে পারে।
জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষক নাগাহাইড তাকাহাশি জানিয়েছেন, “যে শিশুরা দিনে ৩ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইমে কাটায়, তাদের অটিজমের ঝুঁকি ১.৫ গুণ বেশি। আর যারা ৪ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে থাকে, তাদের ঝুঁকি ২.১ গুণ বৃদ্ধি পায়।” তিনি আরও বলেন, এএসডি আক্রান্ত শিশুরা মানুষের তুলনায় বস্তু বা ডিভাইসের প্রতি বেশি আকর্ষণ বোধ করে, যা তাদের স্ক্রিনের প্রতি আসক্তি বাড়ায়।
স্ক্রিন টাইম ও এডিএইচডি
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শুধু অটিজমের ঝুঁকিই বাড়ায় না, এটি এডিএইচডি বা মনোযোগ ঘাটতি ও অতি সক্রিয়তার সমস্যারও একটি প্রধান কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে টিভি বা ট্যাবলেট দেখা শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি তাদের আচরণগত সমস্যা এবং শেখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
কী করবেন অভিভাবকরা?
শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:
- স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন: ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম একেবারেই এড়িয়ে চলুন। ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিনে ১ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম দেওয়া উচিত নয়।
- গুণগত সময়: শিশুদের সঙ্গে বই পড়া, খেলাধুলা বা সামাজিক ক্রিয়াকলাপে সময় কাটান। এটি তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করবে।
- রুটিন তৈরি করুন: শিশুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী তৈরি করুন, যেখানে খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে।
- স্ক্রিন-মুক্ত পরিবেশ: শোবার ঘরে টিভি বা ট্যাবলেট রাখা থেকে বিরত থাকুন। এটি শিশুদের ঘুমের গুণমান উন্নত করবে।
অটিজম বা এডিএইচডি-র জেনেটিক ঝুঁকি থাকুক বা না থাকুক, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের সুস্থ ও সুষম জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।
