x
d o c t o r s 2 4
13 Aug

ক্যানসার একটি জটিল রোগ, যার পেছনে জিনগত এবং পরিবেশগত কারণ উভয়ই ভূমিকা রাখে। পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, “আমার ঝুঁকি কতটা?” বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি বোঝা এবং তা কমানোর উপায় জানা আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারে। এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো, কীভাবে পারিবারিক ইতিহাস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, কোন ক্যানসারে ঝুঁকি বেশি, এবং কীভাবে সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

১. বংশগত বনাম পরিবেশগত কারণ:

  • মাত্র ৫–১০% ক্যানসার জিনের মাধ্যমে পরিবার থেকে আসে (বংশগত)।
  • বাকি ক্যানসারগুলোর কারণ হতে পারে জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ, এবং বয়সজনিত কারণ।
  • পরিবেশগত কারণের মধ্যে রয়েছে দূষণ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, এবং অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব।

২. পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি কতটা?

  • যদি আপনার প্রথম-ডিগ্রি আত্মীয় (মা, বাবা, ভাই-বোন, সন্তান) একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তাহলে আপনার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ২–৩ গুণ বেশি হতে পারে।
  • একাধিক আত্মীয়ের ক্যানসার বা অল্প বয়সে (৫০ বছরের আগে) ক্যানসার ধরা পড়লে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারে বংশগত ঝুঁকি বেশি, যেমন:
    • স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যানসার: BRCA1 এবং BRCA2 জিন মিউটেশনের কারণে ঝুঁকি বাড়ে।
    • কোলন ক্যানসার: লিঞ্চ সিনড্রোম বা FAP (Familial Adenomatous Polyposis) এর কারণে।
    • প্রোস্টেট ক্যানসার: BRCA জিন এবং অন্যান্য জিনের মিউটেশন।
    • কিছু রক্তের ক্যানসার: যেমন লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমা।
    • অন্যান্য: প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার, মেলানোমা (ত্বকের ক্যানসার), এবং থাইরয়েড ক্যানসার।

৩. ঝুঁকি কমানোর উপায়:

3.

  • জেনেটিক কাউন্সেলিং ও টেস্টিং: পারিবারিক ইতিহাস থাকলে জেনেটিক কাউন্সেলরের সঙ্গে পরামর্শ করে জিন টেস্ট করানো যেতে পারে। এটি নির্দিষ্ট জিন মিউটেশন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত স্ক্রিনিং: ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ:
    • স্তন ক্যানসারের জন্য ম্যামোগ্রাম বা এমআরআই।
    • কোলন ক্যানসারের জন্য কোলোনোস্কোপি।
    • প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য PSA টেস্ট।
    • সার্ভিকাল ক্যানসারের জন্য প্যাপ স্মিয়ার।
  • জীবনধারা পরিবর্তন:
    • ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন।
    • ফল, শাকসবজি, এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
    • নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
    • অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করুন।
    • সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা নিন।
  • প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা: কিছু ক্ষেত্রে, যেমন BRCA মিউটেশন থাকলে, প্রতিরোধমূলক অস্ত্রোপচার (যেমন মাস্টেকটমি বা ডিম্বাশয় অপসারণ) বা ওষুধ (যেমন ট্যামোক্সিফেন) দিয়ে ঝুঁকি কমানো যায়।
  • টিকা: এইচপিভি (Human Papillomavirus) এবং হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন কিছু ক্যানসার (যেমন সার্ভিকাল এবং লিভার ক্যানসার) প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

৪. মনে রাখুন

  • পারিবারিক ইতিহাস থাকলেই ক্যানসার হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
  • সঠিক জীবনধারা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
  • আপনার পারিবারিক স্বাস্থ্য ইতিহাস সম্পর্কে জানুন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করুন।

৫. কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

  • যদি আপনার পরিবারে একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
  • যদি কোনো আত্মীয় অল্প বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
  • যদি আপনার পরিবারে বিরল ক্যানসার বা একাধিক ধরনের ক্যানসারের ইতিহাস থাকে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং চিকিৎসার সাফল্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Leave A Comment