x
d o c t o r s 2 4
26 Sep

এন্ডোমেট্রিওসিস, একটি দীর্ঘস্থায়ী স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা, বাংলাদেশের লাখো নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তীব্র পেটে ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক, এবং বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকির মতো উপসর্গ নিয়ে এই রোগ শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে, সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার এবং সমাজের সমর্থন এই রোগের সঙ্গে লড়াই করা নারীদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে এই বিষয়ে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা এবং নতুন উদ্যোগ আশার আলো জাগিয়েছে।

এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীদের জন্য পারিবারিক সমর্থন একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। ঢাকার একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব রোগীর পরিবার তাদের পাশে থাকে, তাদের মানসিক চাপ ৪০% কমে এবং চিকিৎসায় সাফল্যের হার বাড়ে।

পরিবারের সদস্যরা রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে, এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ, সিলেটের রোগী রুমা বেগম (৩২) বলেন, “আমার স্বামী এবং শাশুড়ি আমার চিকিৎসার খরচ বহন করেন এবং আমাকে যোগব্যায়াম করতে উৎসাহ দেন। তাদের সমর্থন আমাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে।”

পরিবারের সদস্যরা রোগীর খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দিতে পারেন। এন্ডোমেট্রিওসিসে প্রদাহবিরোধী খাবার, যেমন হলুদ, আদা, এবং সবুজ শাকসবজি, উপকারী। পরিবারের সদস্যরা এই ধরনের খাবার তৈরি করে এবং রোগীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের সমাজে এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে এখনও অনেক কুসংস্কার এবং অজ্ঞতা রয়েছে। অনেকে এটিকে শুধুই ‘মাসিকের সমস্যা’ হিসেবে দেখে গুরুত্ব দেয় না। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক সংগঠন এবং এনজিওগুলো এই রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। ‘নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন গ্রামীণ এলাকায় কর্মশালার আয়োজন করছে, যেখানে পুরুষ ও নারী উভয়কেই এন্ডোমেট্রিওসিসের উপসর্গ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মশালায় পরিবারের সদস্যদের শেখানো হয় কীভাবে তারা রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে এবং তাদের মানসিক সমর্থন দিতে পারে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্তদের জন্য সম্প্রদায়ভিত্তিক সহায়তা গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গ্রুপগুলোতে রোগীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা তাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। চট্টগ্রামে এই ধরনের একটি গ্রুপের সদস্য ফাতেমা আক্তার বলেন, “এই গ্রুপে আমি এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা আমার মতো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এটি আমাকে একা বোধ করতে দেয় না।”

এছাড়া, স্থানীয় মসজিদ এবং কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো পুরুষদেরও এই রোগ সম্পর্কে শিক্ষিত করছে, যাতে তারা তাদের পরিবারের নারীদের প্রতি আরও সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক পরিবার এই রোগকে লজ্জার বিষয় মনে করে, যা রোগীদের চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের শিক্ষিত করা এবং তাদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা এই কলঙ্ক দূর করতে পারে।

ড. নাজনীন আহমেদ, একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, বলেন, “পরিবারের সমর্থন ছাড়া এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা অসম্পূর্ণ। আমরা পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই রোগের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে চাই।”

 

Leave A Comment