ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), একটি দীর্ঘস্থায়ী পাচনতন্ত্রের সমস্যা, বাংলাদেশে লাখো মানুষের জীবনমানকে প্রভাবিত করছে। এই রোগে পেটে ব্যথা, ফোলাভাব, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, যা প্রায়শই মানসিক চাপ বা খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, ২০২৫ সালে গট মাইক্রোবায়োম থেরাপি এবং ব্যক্তিগতকৃত ডায়েট পরিকল্পনা আইবিএস নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অগ্রগতি রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী এবং কার্যকর সমাধান প্রদান করবে।
আইবিএস একটি কার্যকরী পাচনতন্ত্রের রোগ, যেখানে অন্ত্রের গতিশীলতা এবং সংবেদনশীলতা ব্যাহত হয়। এর সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি অজানা, তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে গট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা, খাদ্য অসহিষ্ণুতা, মানসিক চাপ, এবং হরমোনাল পরিবর্তন এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে, মশলাদার খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, এবং দূষিত পানি আইবিএসের ঝুঁকি বাড়ায়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় জানা গেছে, গট মাইক্রোবায়োমে ডিসবায়োসিস (অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা) আইবিএসের লক্ষণকে তীব্র করে।
এছাড়া, কোভিড-১৯ এর পরবর্তী প্রভাবে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন আইবিএসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশে, স্থানীয় খাবার যেমন ভাত, সবুজ শাকসবজি, এবং হালকা মাছের ঝোল লো-ফোডম্যাপ ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে, দুগ্ধজাত খাবার, গ্লুটেন-সমৃদ্ধ খাবার, এবং তৈলাক্ত মশলাদার খাবার এড়ানো উচিত। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই বা কেফির গট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করে এবং পেটের ফোলাভাব কমায়।
ঢাকার পুষ্টিবিদ ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে আইবিএস রোগীদের জন্য আমলকী বা ত্রিফলার মতো আয়ুর্বেদিক উপাদান উপকারী হতে পারে, কারণ এগুলো পাচনতন্ত্রকে শান্ত করে।”
আইবিএসের চিকিৎসায় ওষুধ, ডায়েট, এবং জীবনধারা পরিবর্তন সমন্বিতভাবে কাজ করে। অ্যান্টিস্পাসমোডিক ওষুধ যেমন মেবেভেরিন পেটের ব্যথা কমায়, এবং লোপেরামাইড ডায়রিয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন (FMT) আইবিএস-ডি (ডায়রিয়া-প্রধান) রোগীদের মধ্যে ৬০% ক্ষেত্রে উপসর্গ কমিয়েছে।
মানসিক চাপ আইবিএসের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে। যোগব্যায়াম, ধ্যান, এবং কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে আইবিএস রোগীদের জন্য CBT-ভিত্তিক কর্মশালা চালু হয়েছে। এছাড়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
