x
d o c t o r s 2 4
07 Oct

দিন শেষে শরীর ও মনের বিশ্রামের নাম ঘুম। কিন্তু আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের ঘুমের ধরনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে ঘুমের ব্যাধি বা Sleep Disorder-এর সংখ্যা, যার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো ইনসমনিয়া ও স্লিপ অ্যাপনিয়া। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সমস্যা শুধু ক্লান্তি নয়—এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, মানসিক অবসাদ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল রোগের কারণও হতে পারে।

ঘুমের ব্যাধি বলতে এমন সব অবস্থা বোঝায় যেখানে মানুষ নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম পায় না বা ঘুমের মান খারাপ থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি সাধারণ ধরন হলো—

  • ইনসমনিয়া (Insomnia): ঘুমাতে সমস্যা, ঘুম ধরে রাখতে না পারা বা খুব ভোরে জেগে যাওয়া।
  • স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea): ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শ্বাসের ব্যাঘাত হওয়া।
  • রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম: ঘুমের সময় পায়ের অস্বস্তি বা নড়াচড়া করার প্রবণতা।
  • নারকোলেপসি: হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার প্রবণতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন ইনসমনিয়ায় ভুগছেন। বাংলাদেশেও শহুরে জীবনে এর হার দ্রুত বাড়ছে।

কারণসমূহ:

  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা
  • অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম (মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার)
  • অনিয়মিত ঘুমের সময়
  • অতিরিক্ত কফি বা চা পান
  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা

লক্ষণ:

  • ঘুমাতে দেরি হওয়া
  • বারবার জেগে ওঠা
  • সকালে ক্লান্তি অনুভব করা
  • মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা হ্রাস

স্লিপ অ্যাপনিয়া এক ধরনের ঘুমের ব্যাধি, যেখানে ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট পর্যন্ত। এটি বারবার ঘটলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রধান কারণ:

  • অতিরিক্ত ওজন
  • গলা বা শ্বাসনালী সংকুচিত হওয়া
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ
  • বয়সজনিত কারণ

লক্ষণ:

  • ঘুমের সময় জোরে নাক ডাকা
  • ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • সকালে মাথাব্যথা
  • দিনে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা না করালে স্লিপ অ্যাপনিয়া মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। প্রয়োজন হলে “CPAP” মেশিনের মাধ্যমে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রবাহ ঠিক রাখা যায়।

ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে কিছু সহজ জীবনধারার পরিবর্তন বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সহজ উপায়সমূহ:

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা।
  • শোবার আগে মোবাইল ও টিভি স্ক্রিন এড়িয়ে চলা।
  • ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে ভারী খাবার পরিহার।
  • নিয়মিত ব্যায়াম ও মেডিটেশন।
  • কফি, চা, ও অ্যালকোহল সীমিত করা।
  • প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ঘুমের থেরাপি বা ওষুধ।

ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এটি শরীরের প্রতিদিনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ইনসমনিয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের ব্যাধি অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, মানসিক অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।

Leave A Comment