x
d o c t o r s 2 4
Hypertension
22 Oct

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন—একটি নীরব ঘাতক রোগ, যা ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কারণ, এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো তীব্র লক্ষণ দেখায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপারটেনশন হওয়ার দুই মাস আগেই শরীরে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দেয়, যা সময়মতো লক্ষ্য করলে বিপদের আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক হাইপারটেনশনের আগাম ৬টি সতর্ক সংকেত—

১. ঘন ঘন মাথাব্যথা

উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো মাথাব্যথা। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভারী লাগা, কপাল বা ঘাড়ের পিছনে চাপ অনুভব করা—এসব ইঙ্গিত হতে পারে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার।
যদিও এই ব্যথা অনেক সময় সহনীয় হয়, তবে এটি নিয়মিত দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।

২. মাথা ঘোরা ও দৃষ্টি ঝাপসা

রক্তচাপ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে হালকা মাথা ঘোরা, দৃষ্টিতে ঝাপসা দেখা বা চোখের সামনে অন্ধকার নামার মতো অনুভূতি হতে পারে। অনেক সময় হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঝিমঝিম করে—এটিও রক্তচাপের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

৩. বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া

হাইপারটেনশন ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বুক ধড়ফড় করা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া দেখা দিতে পারে। কখনো এটি মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মতো মনে হলেও, এটি রক্তচাপ বৃদ্ধির আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।

৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও নিদ্রাহীনতা

রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে অক্সিজেনের সঠিক সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে মানুষ সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি রাতে ঘুম না আসা, মাঝরাতে ঘন ঘন জেগে ওঠা, বা ঘুম ভেঙে মাথা ভারী লাগা—এসব লক্ষণও প্রি-হাইপারটেনশন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে।

৫. নাক থেকে রক্ত পড়া (Nosebleed)

যদিও নাক থেকে রক্ত পড়া সবসময়ই হাইপারটেনশনের লক্ষণ নয়, কিন্তু রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেড়ে গেলে এই ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষত গরম আবহাওয়ায় বা মানসিক চাপে নাক থেকে হালকা রক্ত পড়া দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।

৬. হাত-পা ফুলে যাওয়া ও শরীরে ভারীভাব

দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শরীরে তরল জমে গিয়ে হাত, পা বা চোখের নিচে ফোলা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শরীর ভারী লাগে, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠলে। এটি কিডনি ও রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থায় চাপের ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বাংলাদেশ কার্ডিওলজি সোসাইটির চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকেই হাইপারটেনশন টের পান না, কিন্তু রোগটি চুপিসারে হৃদযন্ত্র, কিডনি, চোখ ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। তাই ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়—

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
  • লবণ ও তেল কম খাওয়া
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ

হাইপারটেনশনকে নীরব ঘাতক বলা হয় কারণ এটি ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে ক্ষতি করে, কিন্তু বাহ্যিকভাবে খুব কম লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই এই ৬টি প্রাথমিক সংকেত দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

Leave A Comment