হাইপোটেনশন বা নিম্ন রক্তচাপ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, যখন রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে শরীরের অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। সাধারণত ৯০/৬০ মিমি এইচজি-এর নিচে রক্তচাপ হলে তাকে হাইপোটেনশন বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, হাইপোটেনশন বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এটি কোনো উপসর্গ সৃষ্টি না করলেও, গুরুতর ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা এমনকি অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। আসুন, জেনে নিই হাইপোটেনশনের কারণ, লক্ষণ এবং জরুরি ব্যবস্থা সম্পর্কে।
হাইপোটেনশন কী?
হাইপোটেনশন এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তচাপ এতটাই কমে যায় যে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং অন্যান্য অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (দ্রুত দাঁড়ানোর সময় রক্তচাপ কমে যাওয়া) বা পোস্টপ্রান্ডিয়াল হাইপোটেনশন (খাওয়ার পর রক্তচাপ কমে যাওয়া)।
হাইপোটেনশনের কারণ
মায়ো ক্লিনিক এবং হেলথলাইনের তথ্য অনুসারে, হাইপোটেনশনের বিভিন্ন কারণ রয়েছে:
- পানিশূন্যতা: অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীরে পানির ঘাটতি।
- রক্তক্ষরণ: অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তক্ষরণের ফলে রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া।
- ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ওষুধ হাইপোটেনশন ঘটাতে পারে।
- হৃৎপিণ্ডের সমস্যা: দুর্বল হৃদপিণ্ড বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন রক্তচাপ কমিয়ে দেয়।
- হরমোনাল সমস্যা: থাইরয়েড বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা হাইপোটেনশনের কারণ হতে পারে।
- পুষ্টির ঘাটতি: ভিটামিন বি১২ বা ফলিক অ্যাসিডের অভাব রক্তশূন্যতার মাধ্যমে হাইপোটেনশন সৃষ্টি করে।
হাইপোটেনশনের লক্ষণ
- মাথা ঘোরা বা হালকা মাথাব্যথা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা প্রায় অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
- ক্লান্তি বা দুর্বলতা
- ঝাপসা দৃষ্টি
- বমি বমি ভাব
- ঠান্ডা বা আঠালো ত্বক
- দ্রুত ও অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস
জরুরি ব্যবস্থা
হাইপোটেনশনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক এবং মেডিকেল নিউজ টুডের পরামর্শ অনুসারে, নিম্নলিখিত ঘরোয়া ও জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর:
- পানি ও লবণ গ্রহণ: পানিশূন্যতার কারণে হাইপোটেনশন হলে দ্রুত পানি বা ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় (যেমন ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) পান করুন। এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পানি পান করলে রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে পারে।
- শুয়ে পড়া: মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি হলে শুয়ে পড়ুন এবং পা মাথার চেয়ে উঁচু করুন। এটি মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ায়।
- কম্প্রেশন স্টকিংস: অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের ক্ষেত্রে কম্প্রেশন স্টকিংস পায়ে রক্ত জমা হওয়া রোধ করে।
- ছোট ও ঘন ঘন খাবার: বড় খাবারের পর রক্তচাপ কমে যাওয়া রোধ করতে ছোট ছোট খাবার বারবার খান।
- ক্যাফেইন গ্রহণ: হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে এক কাপ কফি বা চা সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
- দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।
- হঠাৎ দাঁড়ানো এড়িয়ে ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করুন।
- অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
গুরুতর লক্ষণ, যেমন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা তীব্র বুকের ব্যথা দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা হাইপোটেনশনের ঝুঁকি কমাতে পারে।
