x
d o c t o r s 2 4
03 Nov

এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগ – এটি একটি নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত, এবং বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নতুন কেস ধরা পড়ে।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, রোগের প্রথম খিঁচুনি (সিজার) হওয়ার আগেই – কখনো কখনো ২ মাস পর্যন্ত আগে – শরীরে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এগুলোকে প্রোড্রোমাল সিম্পটম বলা হয়, যা উপেক্ষা করলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং জটিলতা বাড়ে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০-৩০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই আগাম লক্ষণগুলো দেখা যায়, যা সময়মতো চিনলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি রোধ করা যায়। এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব সেই ৫টি লক্ষণ নিয়ে, সাথে নতুন গবেষণার তথ্য যা আপনাকে সচেতন করবে।

এপিলেপ্সি কী এবং কেন এটি এত বিপজ্জনক?

এপিলেপ্সি হলো মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে হওয়া খিঁচুনি-সম্পর্কিত রোগ। মায়ো ক্লিনিকের মতে, এটি জেনেটিক, মাথায় আঘাত, সংক্রমণ বা স্ট্রোকের কারণে হতে পারে, এবং অর্ধেক ক্ষেত্রে কারণ অজানা থাকে। রোগটি যেকোনো বয়সে শুরু হতে পারে, কিন্তু শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

লক্ষণগুলো ফোকাল (এক অংশে) বা জেনারেলাইজড (সারা শরীরে) হতে পারে, যেমন চোখ ঘুরানো, পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে পড়া।

২ মাস আগের ৫টি প্রোড্রোমাল লক্ষণ:

গবেষণায় প্রমাণিত, এপিলেপ্সির প্রথম খিঁচুনির আগে প্রোড্রোমাল ফেজে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে, যা কয়েক ঘণ্টা থেকে দিন বা কখনো মাস পর্যন্ত চলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক ডিলে-এর কারণে এগুলো ২ মাস আগে শুরু হয় বলে মনে হয়। এখানে ৫টি প্রধান লক্ষণ:

  • মেজাজের পরিবর্তন বা অ্যাঙ্গজাইটি: হঠাৎ উদ্বেগ, খিটখিটে ভাব বা বিষণ্ণতা। এটি ২০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম সংকেত, যা দিন বা সপ্তাহ ধরে চলে।
  • অবিরাম মাথাব্যথা: মাইগ্রেন-এর মতো তীব্র বা হালকা মাথাব্যথা, যা ঘুমের পরেও থাকে। এটি প্রোড্রোমের সাধারণ লক্ষণ।
  • ঘুমের সমস্যা বা ইনসমনিয়া: রাতে ঘুম না হওয়া বা অস্থিরতা। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি খিঁচুনির ২৪-৪৮ ঘণ্টা আগে শুরু হয়, কিন্তু ক্রনিক হলে মাস ধরে চলতে পারে।
  • একাগ্রতার অভাব বা বিভ্রান্তি: মনোযোগ হারানো বা ছোটখাটো স্মৃতিলোপ। এটি মস্তিষ্কের প্রারম্ভিক পরিবর্তন নির্দেশ করে।
  • অদ্ভুত অনুভূতি বা সেন্সরি চেঞ্জ: ডেজা ভু, অদ্ভুত গন্ধ বা আলো দেখা। এগুলো অরা-এর মতো, কিন্তু প্রোড্রোমে মৃদু হয়।

এই লক্ষণগুলো মৃদু থেকে শুরু হয় এবং উপেক্ষা করলে খিঁচুনি ট্রিগার হয়।

২০২৪ সালের একটি পাবমেড রিভিউতে দেখা গেছে, প্রোড্রোমাল লক্ষণগুলোর সময়কাল সাধারণত ১০ মিনিট থেকে ৩ দিন, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আরও লম্বা। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর গবেষণায় শিশুদের ক্ষেত্রে আগাম লক্ষণ চিনলে মস্তিষ্কের বিকাশ ৩০ শতাংশ ভালো হয়। নতুন প্রযুক্তি যেমন ওয়্যারেবল ডিভাইস (যেমন অ্যাপল ওয়াচ) খিঁচুনির আগাম সংকেত ধরতে পারে, যা ৮৫ শতাংশ সঠিক। এছাড়া, জেনেটিক টেস্টিংয়ে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট জিন মিউটেশন প্রোড্রোমকে প্রভাবিত করে।

এপিলেপ্সির চিকিৎসায় অ্যান্টি-এপিলেপটিক ড্রাগ (যেমন ভালপ্রোয়েট, লেভেটিরাসেটাম) ব্যবহৃত হয়, যা ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করে। সার্জারি বা ভ্যাগাস নার্ভ স্টিমুলেশন নতুন অপশন। প্রতিরোধে ঘুমের রুটিন, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং মাথায় আঘাত এড়ানো জরুরি।

Leave A Comment