x
d o c t o r s 2 4
03 Nov

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) একটি রহস্যময় রোগ, যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রোগে ভুগছেন, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো—রোগের প্রকৃত লক্ষণ দেখা দেওয়ার অনেক আগেই শরীরে ছোটখাটো সংকেত দেখা যায়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াগনোসিসের কমপক্ষে ৫-১৫ বছর আগে থেকে ‘প্রড্রোমাল ফেজ’ শুরু হয়, যেখানে অস্পষ্ট লক্ষণগুলো রোগের আগমনী বার্তা দেয়। বিশেষ করে ডায়াগনোসিসের ৬ মাস আগে ৭টি সাধারণ লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা উপেক্ষা করলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই লক্ষণগুলো জেনে রাখলে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চলুন জেনে নিই সেগুলো কী কী এবং কেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

এমএস-এর প্রড্রোমাল ফেজ:

এমএস রোগে ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের স্নায়ুকোষের আবরণ (মায়েলিন) আক্রমণ করে, যার ফলে স্নায়ু সিগন্যাল ব্যাহত হয়। গবেষকরা দেখেছেন, রোগের প্রথম স্পষ্ট আক্রমণ (যেমন অপটিক নিউরাইটিস) দেখা দেওয়ার অনেক আগে থেকে শরীরে অস্পষ্ট পরিবর্তন শুরু হয়।

কানাডা এবং ইউরোপের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এমএস রোগীদের ৫ বছর আগে থেকে ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া বাড়ে—বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য, পেটের সমস্যা এবং ক্লান্তির জন্য। ডায়াগনোসিসের ঠিক ৬ মাস আগে এই লক্ষণগুলো তীব্র হয়ে ওঠে, যা রোগের ‘প্রারম্ভিক সতর্কতা’ হিসেবে কাজ করে। এই ফেজে রোগ শনাক্ত করলে ডিজিজ-মডিফাইং থেরাপি (ডিএমটি) দিয়ে অক্ষমতা ৩০-৫০% কমানো যায়।

৬ মাস আগের ৭টি গোপন লক্ষণ:

গবেষণায় চিহ্নিত এই ৭টি লক্ষণ ডায়াগনোসিসের ৬ মাস আগে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এগুলো সাধারণ মনে হলেও একসঙ্গে দেখা দিলে সতর্ক হোন:

  • অবিরাম ক্লান্তি: সাধারণ কাজে অতিরিক্ত ক্লান্তি, যা বিশ্রামে সারে না। এমএস-এ স্নায়ু প্রদাহের কারণে এনার্জি লেভেল কমে যায়।
  • মানসিক সমস্যা (ডিপ্রেশন-অ্যাঙ্গজাইটি): হঠাৎ মেজাজ খারাপ, উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন। ১৪ বছর আগে থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ে।
  • প্রস্রাব-মলত্যাগের সমস্যা: ঘন ঘন ইউরিনারি ইনফেকশন বা কনস্টিপেশন। স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়।
  • ঝিমঝিম বা অসাড়তা: হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি বা অসাড়তা, যা সেন্সরি নার্ভের প্রথম আক্রমণ।
  • চোখের সমস্যা: ঝাপসা দৃষ্টি, ডাবল ভিশন বা চোখে ব্যথা। অপটিক নার্ভ প্রদাহের প্রথম লক্ষণ।
  • মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন: তীব্র মাথাব্যথা, যা ১ বছর আগে থেকে বাড়ে।
  • হাঁটতে অসুবিধা বা ভারসাম্যহীনতা: পা ভারী লাগা বা হাঁটতে টলমল করা। মোটর নার্ভের প্রভাব।

এই লক্ষণগুলো একা একা অন্য রোগেরও হতে পারে, কিন্তু একসঙ্গে দেখা দিলে এমআরআই এবং সিএসএফ টেস্ট করানো জরুরি।

২০২৫ সালের ইউবিসি গবেষণায় দেখা গেছে, এমএস রোগীরা ১৫ বছর আগে থেকে ডাক্তারি সেবা বেশি নেন—বিশেষ করে ফ্যাটিগ, ডিজিনেস এবং মেন্টাল হেলথের জন্য। প্যারিস ব্রেন ইনস্টিটিউটের গবেষণায় প্রমাণিত, ডিপ্রেশন এবং ইউটিআই ৫ বছর আগে থেকে সংকেত দেয়।

এখন নতুন বায়োমার্কার (যেমন নিউরোফিলামেন্ট প্রোটিন) দিয়ে রক্ত পরীক্ষায় রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসায় ওক্রেলিজুম্যাব বা ফিঙ্গোলিমডের মতো ওষুধ রিল্যাপস ৭০% কমায়।

যদি এই লক্ষণগুলো দেখেন, তাৎক্ষণিক নিউরোলজিস্টের কাছে যান। ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, ধূমপান ত্যাগ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন রোগের ঝুঁকি কমায়।

Leave A Comment