x
d o c t o r s 2 4
10 Nov

ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া — শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, এটি বাস্তব এক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর নাম স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, পৃথিবীতে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন, যার মধ্যে অনেকেই জানেনই না যে তারা এতে আক্রান্ত। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো— রোগটি শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাস আগে থেকেই শরীর কিছু স্পষ্ট সতর্ক সংকেত দিতে থাকে, যা উপেক্ষা করলে তা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া কী?

স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এমন এক ঘুমজনিত ব্যাধি, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা অত্যন্ত ধীরে চলে। এর ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়, ঘুম ভেঙে যায়, এবং সকালে ক্লান্তি বা মাথাব্যথা নিয়ে দিন শুরু হয়।
এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডিপ্রেশন ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার ৩ মাস আগে শরীরে দেখা দেয় ৪টি প্রধান লক্ষণ

১️. ঘন ঘন গলা শুকিয়ে যাওয়া ও নাক ডাকা

রাতে ঘুমানোর সময় জোরে নাক ডাকা কেবল শব্দ নয়, এটি হতে পারে শ্বাসনালিতে বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় ৮০% মানুষ ঘুমের আগে থেকেই গলা শুকিয়ে যাওয়া, কাশি, বা মুখে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসে ভোগেন।

২️. দিনের বেলায় অকারণে ঘুমঘুম ভাব ও মনোযোগের অভাব

রাতে ঘুম গভীর না হলে মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ বিশ্রাম পায় না।
ফলে সকালে ক্লান্তি, অফিসে মনোযোগ হারানো, কিংবা গাড়ি চালানোর সময় চোখ লেগে আসা — এগুলো দেখা দেয় ইনসোমনিয়া নয়, বরং স্লিপ অ্যাপনিয়ার আগাম সংকেত হিসেবে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোগ শুরু হওয়ার ২–৩ মাস আগে থেকেই রোগীদের মস্তিষ্কে ঘুমজনিত বিঘ্নের প্রভাব পড়তে শুরু করে, যা মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়া কমিয়ে দেয়।

৩️. সকালে ঘন ঘন মাথাব্যথা বা বুক ধড়ফড়

ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে রক্তচাপ ও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে।
ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে।

৪️. রাতে ঘন ঘন জেগে ওঠা ও অস্থিরতা

স্লিপ অ্যাপনিয়ার আগে ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে ছোট ছোট ব্যাঘাত ঘটে, যা মস্তিষ্ককে বারবার জাগিয়ে দেয়।
ফলে ঘুম ছিন্নভিন্ন হয়, মাঝরাতে ঘন ঘন উঠে পানি খাওয়া, ঘাম হওয়া বা ভয় পাওয়া— এমন উপসর্গ দেখা দেয়।
বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি বা ঘাড় মোটা, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো রোগ শুরুর ৮–১২ সপ্তাহ আগেই দেখা যেতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা রয়েছে এমন ব্যক্তি
  • ধূমপায়ী ও মদ্যপানকারীরা
  • উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগী
  • পুরুষদের মধ্যে (বিশেষত ৪০ বছরের পর)
  • যাদের পরিবারের কারও স্লিপ অ্যাপনিয়ার ইতিহাস রয়েছে

প্রতিরোধে করণীয়

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করুন, পিঠের ওপর নয়।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
  • নাক বন্ধ বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে চিকিৎসা নিন।
  • ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা থাকলে স্লিপ টেস্ট (Polysomnography) করান।

Leave A Comment