পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যে রোগটি হয়, তাকে বলা হয় হাইপোগোনাডিজম। এটি শুধু যৌনজীবন নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যকেই প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পূর্ণাঙ্গ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার অন্তত ৬ মাস আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়। মেয়ো ক্লিনিক এবং ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতো বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে অস্টিওপরোসিস, হৃদরোগ এমনকি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
হাইপোগোনাডিজম আসলে কী?
হাইপোগোনাডিজম হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে পুরুষের অণ্ডকোষ বা মহিলাদের ডিম্বাশয় যথেষ্ট পরিমাণে যৌন হরমোন উৎপাদন করতে পারে না। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে এটি লেট-অনসেট হাইপোগোনাডিজম নামে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষ এই সমস্যায় ভোগেন। নতুন তথ্য হলো – স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘদিনের স্ট্রেস এই রোগের ঝুঁকি ৩ গুণ বাড়িয়ে দেয়।
৬ মাস আগেই যে ৫টি লক্ষণ দেখা দেয়
গবেষকরা জানাচ্ছেন, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলে প্রথম ৬ মাসে এই লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়। এগুলোকে ‘প্রি-হাইপোগোনাডিক সিনড্রোম’ বলা হচ্ছে নতুন গবেষণায়।
১. অবিরাম ক্লান্তি ও শক্তির অভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাদিন ক্লান্ত লাগা, কাজে মন না বসা – এটি প্রথম সংকেত। এন্ডোক্রাইন সোসাইটির গবেষণায় দেখা গেছে, টেস্টোস্টেরন কমলে মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে শক্তি উৎপাদন কমে।
২. যৌনাকাঙ্ক্ষার হ্রাস
সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ কমে যাওয়া বা যৌন চিন্তার অভাব – এটি ৬ মাস আগেই শুরু হয়। মেয়ো ক্লিনিক জানাচ্ছে, এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ।
৩. বিষণ্ণতা ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া
হঠাৎ রেগে যাওয়া, উদ্বেগ বা হালকা ডিপ্রেশন – টেস্টোস্টেরন মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ করে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই লক্ষণ ৬৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে প্রথম দিকে দেখা যায়।
৪. পেশী শক্তি ও ভর হ্রাস
জিমে গেলেও পেশী না বাড়া বা হঠাৎ দুর্বল লাগা। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে, টেস্টোস্টেরন কমলে প্রোটিন সিন্থেসিস ৩০ শতাংশ কমে যায়।
৫. ঘুমের ব্যাঘাত ও গরম ঝলকানি
রাতে ঘুম না আসা বা ঘুম ভেঙে যাওয়া, হঠাৎ গরম লাগা – এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, এই লক্ষণটি প্রায়শই উপেক্ষিত হয়।
কী করবেন যদি এই লক্ষণ দেখেন?
রক্ত পরীক্ষায় সকাল ৮-১০টার মধ্যে টেস্টোস্টেরন লেভেল চেক করান। ৩০০ এনজি/ডিএল-এর নিচে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিতে টেস্টোস্টেরন জেল, ইনজেকশন বা পেলেট থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ৬ মাসের মধ্যে লক্ষণ ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেয়।
প্রতিরোধের উপায়
ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ভিটামিন ডি ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার – এগুলো টেস্টোস্টেরন ২০ শতাংশ বাড়াতে পারে। স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৫টি লক্ষণ দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে হাইপোগোনাডিজম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
