ত্বকের ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থানে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, বেসাল সেল এবং স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের মতো নন-মেলানোমা ধরনের ক্ষেত্রে প্রায় ৫ মিলিয়ন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
মায়ো ক্লিনিকের গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পূর্ণাঙ্গ নির্ণয়ের ৩ মাস আগেই ত্বকে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা প্রিকার্সর লেশন যেমন অ্যাকটিনিক কেরাটোসিস (একিউ) থেকে উদ্ভূত। এই প্রাথমিক সংকেতগুলো উপেক্ষা করলে মেলানোমার ঝুঁকি ১০ গুণ বাড়ে, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব।
সূর্যের অতিরিক্ত আলোকপ্রকাশ ছাড়াও এখন ইনডোর ট্যানিং এবং কেমিক্যাল এক্সপোজার এই ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বাড়িয়েছে।
স্কিন ক্যান্সার কী এবং কেন হয়?
স্কিন ক্যান্সার হলো ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, যা মূলত ইউভি রশ্মির কারণে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেসাল সেল কার্সিনোমা (বিসিসি) সবচেয়ে সাধারণ, যা ধীরগতিতে ছড়ায়, যখন স্কোয়ামাস সেল (এসসিসি) দ্রুত ছড়াতে পারে। মেলানোমা সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যে বলা হয়েছে, অ্যাকটিনিক কেরাটোসিসের মতো প্রিকার্সর লেশন ৮২ শতাংশ এসসিসি ক্যান্সারের উৎস। একটি পাবমেড গবেষণায় প্রমাণিত, এই লেশন থেকে ক্যান্সারে রূপান্তরের গড় সময় ২৪.৬ মাস, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়।
৩ মাস আগেই যে ৫টি লক্ষণ দেখা দেয়
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিকার্সর স্টেজে (যাকে ‘প্রি-ক্যান্সারাস ফেজ’ বলা হয়) ৩ মাস আগে এই লক্ষণগুলো ত্বকে ফুটে ওঠে। এগুলোকে ‘এআরই সাইনস’ (একিউ-রিলেটেড আর্লি সাইনস) বলে অভিহিত করা হচ্ছে। স্কিন ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, এই স্টেজে ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ।
১. নতুন বা পরিবর্তিত মোলের উদ্ভব
একটি নতুন মোল যা অসমান, বড় হয়ে যাওয়া বা রঙ পরিবর্তন – এটি মেলানোমার প্রথম সংকেত। এবিসিডই নিয়ম (অ্যাসিমেট্রি, বর্ডার, কালার, ডায়ামিটার, ইভলভিং) অনুসরণ করুন। ৩ মাস আগে এই পরিবর্তন ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
২. নিরাময় না হওয়া আঘাত বা ক্ষত
ত্বকে একটি ছোট ক্ষত যা ৪ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রক্তপাত করে বা পুঁজ হয় – এটি বিসিসি-এর লক্ষণ। ক্লারাস ডার্মাটোলজির গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি ৩ মাস আগে শুরু হয় এবং উপেক্ষা করলে ছড়ায়।
৩. রুক্ষ, স্কেলি প্যাচ বা খসখসে দাগ
সূর্যপ্রকাশিত অংশে (মুখ, হাত) রুক্ষ দাগ যা লালচে বা বাদামী – এটি অ্যাকটিনিক কেরাটোসিসের চিহ্ন, যা এসসিসি-এর প্রিকার্সর। ফ্রন্টিয়ার্স জার্নালের স্টাডিতে প্রমাণিত, ১০ শতাংশ এই লেশন ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়, এবং ৩ মাসের মধ্যে বাড়তে থাকে।
৪. চুলকানি বা ব্যথা সহ অস্বাভাবিক দাগ
ত্বকের একটি দাগ যা ক্রমাগত চুলকায় বা স্পর্শে ব্যথা করে – এটি প্রি-ক্যান্সারাস ফেজের সংকেত। হাইটস ডার্মাটোলজির তথ্যে বলা হয়েছে, এই লক্ষণ ৫৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে ৩ মাস আগে দেখা যায় এবং ইমিউন সিস্টেমের দুর্বলতার সাথে যুক্ত।
৫. চকচকে বা পার্লি বাম্পস
লালচে বা গোলাপী উঁচু দাগ যা চকচকে দেখায় এবং রক্তনালী দেখা যায় – এটি বিসিসির প্রথম লক্ষণ। মিয়ামি ডার্ম সেন্টারের গবেষণায় উল্লেখ, এটি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং ৩ মাসের মধ্যে স্পষ্ট হয়।
এই লক্ষণ দেখলে কী করবেন?
মাসিক সেল্ফ-এক্সাম করুন এবং অস্বাভাবিক কিছু দেখলে ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যান। বায়োপ্সি বা ডার্মোস্কোপি দিয়ে নির্ণয় করা যায়। নতুন চিকিৎসায় টপিক্যাল ক্রিম (যেমন ফ্লুয়োরোইউরাসিল) বা ফটোডায়নামিক থেরাপি ৮০ শতাংশ লেশন অপসারণ করে। প্রি-স্টেজে ধরলে সার্জারি এড়ানো যায়।
