গলা ব্যথা বা কণ্ঠ বসে যাওয়া — এসব সমস্যা আমরা প্রায়ই সাধারণ সর্দি-কাশি বা মৌসুমি অ্যালার্জি ভেবে অবহেলা করি। কিন্তু কখনও কখনও এই ছোট্ট লক্ষণগুলোই হতে পারে এক মারাত্মক রোগের পূর্বাভাস — থ্রোয়াট ক্যান্সার বা গলার ক্যান্সার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্রোয়াট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ৯০% ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সফল হয়, কিন্তু সমস্যা হলো — এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ যে রোগী বুঝতেই পারেন না কী ঘটছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রোগটি শুরু হওয়ার ১ মাস আগে থেকেই শরীরে কিছু স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা দেয়। নিচে সেই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. কণ্ঠস্বর পরিবর্তন বা কণ্ঠ বসে যাওয়া
গলার ক্যান্সারের সবচেয়ে প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ হলো হঠাৎ করে কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া।
যদি আপনি কোনো সংক্রমণ ছাড়াই কণ্ঠ বসে যাওয়া বা ভারী গলা অনুভব করেন এবং তা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, গলার স্বরযন্ত্রে টিউমার তৈরি হলে তা স্বর উৎপাদনের পেশি ও স্নায়ুতে চাপ ফেলে, ফলে কণ্ঠ পরিবর্তন হয়।
২. গিলতে সমস্যা বা গলায় কিছুর আটকে থাকার অনুভূতি
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা প্রায়ই বলেন, “গলায় কিছু আটকে আছে মনে হয়।”
এটি কোনো খাদ্যনালীর সমস্যা নয়, বরং গলার ভেতরে টিউমার বা প্রদাহ থেকে সৃষ্ট সংকেত।
যদি খাবার গিলতে ব্যথা হয় বা পানীয় গিলে নিতে কষ্ট হয়, তবে এটি উপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. গলা বা ঘাড়ে স্থায়ী ব্যথা
যদি গলা ব্যথা বা ঘাড়ের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে চাপ দিলে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয় এবং তা ২-৩ সপ্তাহের বেশি থাকে, তাহলে এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষত যদি ব্যথা কান পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, তবে এটি থ্রোয়াট বা ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।
৪. ঘাড়ে ফোলা গাঁট বা লিম্ফ নোড বৃদ্ধি
গলার ক্যান্সার প্রায়ই লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ঘাড়ে ছোট ছোট ফোলা গাঁট দেখা যায়।
এটি সাধারণ সর্দি বা সংক্রমণের মতো মনে হলেও, যদি গাঁটটি শক্ত হয়, ব্যথাহীন হয়, এবং ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী থাকে, তবে দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি।
অনেক সময় এই গাঁটই থ্রোয়াট ক্যান্সারের প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ।
৫. কাশি বা কফে রক্ত আসা
যদি দীর্ঘদিন ধরে শুকনো কাশি থাকে বা কফে রক্ত দেখা যায়, সেটি গলার ভেতরের ক্ষত বা টিউমারের কারণে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কণ্ঠনালির ক্ষত বা আলসার যখন রক্তনালীতে আঘাত করে, তখনই এই উপসর্গ দেখা দেয়।
এটি ফুসফুস ক্যান্সারেরও প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, তাই দ্রুত পরীক্ষা অপরিহার্য।
৬. অকারণে ওজন হ্রাস ও ক্লান্তি
ক্যান্সার কোষ শরীরের শক্তি শোষণ করে নেয়, ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে ওজন হারান এবং সবসময় ক্লান্ত বা দুর্বল বোধ করেন।
যদি খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রম না বাড়িয়েও ওজন হঠাৎ কমে যায়, তবে এটি উপেক্ষা করা বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- ধূমপান, মদ্যপান, তামাক, বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত গরম খাবার — এগুলো থ্রোয়াট ক্যান্সারের প্রধান ঝুঁকির কারণ।
- যারা নিয়মিত ধূমপান বা পান খায়, তাদের বছরে অন্তত একবার ENT পরীক্ষা ও ল্যারিঙ্গোস্কোপি করানো উচিত।
- রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার বা রেডিয়েশন থেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
